নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভেস্ট পরা রেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মালপত্র উদ্ধার ও কাউকে আটক করা যায়নি। এরই মধ্যে খালি হাতে ঢাকায় ফিরে গেছেন ওই জার্মান পর্যটক। তবে পুলিশ জানিয়েছে, জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাইভ লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যানুয়ালি তদন্তের কাজ করতে হচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ আরো জানায়, এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলের রেলের সব স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে সব রেলস্টেশনের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জার্মান পর্যটক ক্রিলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাটোর সদর থানার উপপরিদর্শক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘ক্রিলের ম্যাকবুকের লাইভ লোকেশন বা ট্র্যাকিং আর কাজ করছে না। সর্বশেষ লালপুরের আব্দুলপুরে লোকেশন দেখায়। কিন্তু সেখানেও অভিযান চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ম্যাকবুকটি বন্ধ থাকায় এখন আমাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। আমরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি ভেস্ট পরা রেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে। তাকে আটকের জন্য উত্তরাঞ্চলের সম্ভাব্য সব স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবু কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘জার্মান পর্যটকের সঙ্গে প্রতারকের ট্রেনের মধ্যেই পরিচয় হয়। সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। তবে ভেস্ট পরা প্রতারক যুবক রেলের আউট সোসিং কর্মচারী। কিন্তু রেলের কেউ তা স্বীকার করছেন না। এ ব্যাপারে সহযোগিতাও করছেন না। তবু আমরা হাল ছাড়ছি না। দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এটি উদ্ধার করতেই হবে।’ গত ৭ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে বগুড়া থেকে লালমনি এক্সপ্রেসে নাটোর রেলস্টেশনে নামেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। এ সময় তার সঙ্গে ভেস্ট পরা যুবকটিও সঙ্গে ছিল। পরে ভিআইপি বিশ্রামগারে অজ্ঞাত ওই যুবকের কাছে ব্যাগ রেখে বুথে টাকা তুলতে যান পর্যটক ক্রিল। পরে বিশ্রামাগারে ফিরে এসে আর ওই যুবককে দেখতে পাননি। তাকে খুঁজে না পেয়ে নাটোর সদর থানায় পুলিশকে বিস্তারিত জানান ক্রিল। অভিযোগের পর মালপত্র উদ্ধারে নামে পুলিশ।
নাটোর রেলস্টেশনের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ট্রেন থেকে নামার সময়ই ক্রিলের সঙ্গে ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন ওই যুবক। পরে জার্মান পর্যটকের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভেস্ট খুলে বিকাল ৪টার দিকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে অভিযুক্ত নাটোর স্টেশন ছেড়ে চলে যান।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই জার্মান পর্যটকের মালপত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। প্রতিদিনই পুলিশের দুটি টিম টাক করছে। যেহেতু লাইভ লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না, সে কারণে ম্যানুয়ালি কাজ করতে হচ্ছে। জার্মান পর্যটকের মালপত্র উদ্ধার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’