দ্বিতীয় দিনে তিন জাহাজে সেন্টমার্টিনে ১৬১২ পর্যটক

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে আজ সকালে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এর আগে গতকাল সকাল ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বার আউলিয়া রাতেই কক্সবাজার ফিরে আসে

অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে চলতি মৌসুমে চলাচল শুরুর দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে এমভি বার আউলিয়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে আরো দুটি জাহাজ। আজ তিন জাহাজে মোট ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কক্সবাজার ছেড়ে গেছেন।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে আজ সকালে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

এর আগে গতকাল সকাল ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বার আউলিয়া রাতেই কক্সবাজার ফিরে আসে।

আজ সকালে যাত্রা করা তিন জাহাজ দুপুরের মধ্যে দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযান চলাচলের ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত শর্ত পূরণ নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা যায়নি।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিন জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। যেহেতু এবছর দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি আছে সেহেতু জাহাজ সংখ্যাও বাড়তে পারে।’

নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। সেন্টমার্টিন যাওয়ার যাত্রায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা।

ফটিকছড়ি থেকে আসা পর্যটক আমীর উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের সম্পদ, একজন নাগরিক হিসেবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় আমরা যারা সেখানে ঘুরতে যাই তাদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করি।

তবে জাহাজের টিকিটের মূল্য বেশি হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যটক।

ঢাকার আশুলিয়ার বাসিন্দা লোকমান হাকিম বলেন, টিকিটের দাম একটু বেশি মনে হয়েছে, ভ্রমণ পিয়াসুদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা হলে ভালো হতো।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য এবার কয়েকটি শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটকদের পরিচয় ও যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও দ্বীপটির ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একাধিক বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যটকদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেয়াবনে প্রবেশ, ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা।

এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো ছোট ও সংবেদনশীল দ্বীপে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানির ব্যবহার, জ্বালানি, শব্দদূষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপও বাড়তে পারে। ফলে শুধু পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নিয়ম বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকিও জরুরি।

কক্সবাজার পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও নজরদারি রয়েছে।

আরও