দিনাজপুর পৌরসভায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা, ড্রেন ও সড়কবাতি। তিনটি প্রকল্পের আওতায় নেয়া এ উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তবে নতুন আরসিসি রাস্তা ও ড্রেনগুলো বর্তমান রাস্তা ও ড্রেনের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেশি উচ্চতায় নির্মিত হচ্ছে। ফলে পৌর এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাস্তা থেকে কমপক্ষে তিন ফুট নিচু হয়ে পড়ছে।
পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, যেভাবে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে তাতে বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার প্রতিটি আবাসিক এলাকা, বাজার, দোকানপাট ও সুপার মার্কেটগুলোয় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিনাজপুর পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, তিনটি প্রকল্পের অধীনে চলমান কাজগুলোর মধ্যে এলজিইডির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এছাড়া পৌরসভার জন্য দুটি প্রকল্পের একটিতে ৩৯ কোটি এবং অন্যটিতে ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
দিনাজপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াসিম আতহার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিগত সরকারের আমলে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। ২০২৩ সালে এর কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অধীনে দিনাজপুর পৌরসভার ৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটারে ১৩টি আরসিসি রাস্তা এবং ৭ হাজার ১২৮ মিটার ড্রেন রয়েছে। এতে ব্যয় ধরা আছে ২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আরসিসি রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে।’
সরজমিনে দেখা গেছে, শহরের বাহাদুর বাজার মোড়ের আরসিসির তৈরি নতুন দুটি ফিডার রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। একটি রেল স্টেশনসংলগ্ন ইউসুফ বেকারির সামনে থেকে পশ্চিমে ষষ্ঠীতলা মোড় এবং অন্যটি বাহাদুর বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে পুরাতন বাহাদুর বাজার শেষে ষষ্ঠীতলায় গিয়ে শেষ হয়েছে। দুটি রাস্তাই দুই ফুট উঁচু। দুই পাশে নতুন যে ড্রেনের নির্মাণকাজ চলছে সেটি বাহাদুর বাজার, উত্তরা সুপার মার্কেট, আব্দুর রহিম সুপার মার্কেট, বোস্তান সিনেমা মার্কেট এমনকি শহরের প্রধান সংস্কৃতিচর্চা ও মঞ্চ দিনাজপুর নাট্য সমিতির রাস্তা থেকে নিচে চলে গেছে।
দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যে উচ্চতায় পৌরসভার ড্রেন ও রাস্তা নির্মিত হচ্ছে তাতে বৃষ্টি হলে নাট্য সমিতি হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে।’
বাহাদুর বাজার উত্তরা সুপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মো. এখলাছুর রহমান বলেন, ‘শহরের সবচেয়ে উঁচু এলাকা বাহাদুর বাজার এবং উত্তরা সুপার মার্কেট। কিন্তু বাজার ও মার্কেটের উচ্চতার চেয়ে নতুন রাস্তা এবং ড্রেনের উচ্চতা কমপক্ষে দুই-তিন ফুট বেশি। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং পৌরসভার মার্কেট, দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাঁটুপানিতে তলিয়ে যাবে। পৌসভার অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না থাকার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কাজে আসবে না।’
তবে পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তার উচ্চতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ড্রেনগুলো যদি প্রশস্ত না হয় এবং ড্রেনের পানি সঠিকভাবে গড়িয়ে শহরের প্রধান পানি নিষ্কাশন খাল ঘাঘরা, গিরিজায় গিয়ে না পড়ে তাহলে জলবদ্ধতা হবে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি এসব ড্রেনে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।’
অবশ্য এলজিইডি দিনাজপুরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াসিম আতহার দাবি করেন, এলজিইডির অধীন যেসব রাস্তা ও ড্রেন নির্মিত হচ্ছে শহরের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের কথা চিন্তা করেই সেগুলোর নকশা করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন বাড়িঘর নির্মাণে পৌরসভার নাগরিকদের সেভাবেই নকশা করতে হবে, যাতে জলাদ্ধতা সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি বাজার, দোকান মালিক ও পৌরবাসীকেও সচেতন থাকতে হবে, যাতে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য পৌরসভার ড্রেনে না পড়ে।’
প্রায় ২৫ বছর ধরে পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের বেহাল দশা। ড্রেনের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হয় না। সংস্কারের অভাবে বেশির ভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত সরকারের আমলে পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের উন্নয়নে ৩৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়, যার কাজ বর্তমানে চলমান। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে নেয়া ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো তিনটি প্রকল্পের অধীনে পৌরসভা এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তা, ড্রেন ও স্ট্রিট লাইটের উন্নয়নকাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম খান।