কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। জেলায় কৃত্রিম সার সংকট, সরবরাহে জটিলতা, কৃষক হয়রানি ও কালোবাজারির বিভিন্ন ঘটনা একের পর এক ঘটছিল। এসব প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থাও নেয়। বরাদ্দ দেয় অতিরিক্ত সার। এর মাঝে জেলায় ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ডিলারপ্রত্যাশী যারা নিয়োগ পাননি তাদের একটা অংশ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগের বিষয়ে অনিয়মের কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ৪ হাজার ৩০০ টন সার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে আমন আবাদের শুরু থেকেই সংকটের অভিযোগ তোলেন কৃষকরা। রাত থেকে অপেক্ষা করেও সার না পাওয়ায় অনেক ডিলার পয়েন্টের সামনে হট্টগোল বাধে। ডিলার পয়েন্ট ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় ডিলার পয়েন্টের গোডাউন থেকে সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে কৃষকদের বিরুদ্ধে। পরে প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করলে নিয়ে যাওয়া সারের বস্তা ফেরতও দিয়ে যান অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬ নদ-নদীবেষ্টিত এ জেলায় চলতি বছর বন্যার তেমন কোনো প্রভাব ছিল না। ফলে চরাঞ্চলসহ নিচু এলাকায় বেশি পরিমাণ জমিতে আমনসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ বেড়ে যাওয়ায় সারের প্রয়োজনও বেশি পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগ সে হিসাব অনুযায়ী চাহিদা দিতে পারেনি। ফলে জেলায় সার নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কুড়িগ্রামে প্রশাসন ও সার ডিলারদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায়ও কৃষি বিভাগের প্রতি এমন অভিযোগ তোলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার।
পরবর্তী সময়ে সার বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রত্যেক ইউনিয়নে নির্ধারিত ডিলারের পাশাপাশি আরো একজন করে ডিলার নিয়োগ দেয় সরকার। সে সময় জেলার ৭২ ইউনিয়ন এবং তিন পৌরসভায় ওই একজন করে ডিলার নিয়োগের সময় থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। নতুন করে আবার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির একাংশ প্রতিবাদ করেছে। নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এরই মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির ওই অংশের নেতাকর্মীরা।
গত মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৫ জন সার ডিলারের মধ্যে ১০ জনকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির একজন সদস্যের অনিয়মের কারণে এসব নিয়োগ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আল আমিন, সাবেক সভাপতি নুরনবী দুলাল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান লেবু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হক, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নুরুজ্জামান ও পৌর যুবদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যরা।
অন্যদিকে সমাবেশে তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, ‘যারা মিছিল করেছেন, তারা না বুঝে করেছেন। যারা যোগ্য, তারাই ডিলারশিপ পেয়েছেন।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির জানান, ‘জেলায় সারের সংকট নেই। সার বিতরণে ম্যানেজমেন্টের যে সমস্যা ছিল সেগুলো আপডেট করা হচ্ছে। এছাড়া সার ডিলার নিয়োগ জেলা-উপজেলা কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে তা সংশোধনের সময় আছে।’ এছাড়া অনিয়মের বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।