রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশ ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ রোববার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে বিভেদ ভুলে ঐক্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
নিজ জেলার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের সঙ্গে আছি, আর আপনাদের সঙ্গে থাকব। তার এ বক্তব্যে ঠাকুরগাঁওবাসীর সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে গেলেন রাষ্ট্রপতি। রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারে পৌঁছানোর পর তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি প্রয়াত বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। তাকে বরণ করতে মাঠে জড়ো হন জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ সময় করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক—আমি তোমাদেরই লোক।
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।