নোয়াখালীর চৌমুহনী-সোনাপুর চার লেন প্রকল্প

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, বাড়ছে দুর্ভোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তা-সোনাপুর চার লেন প্রকল্পের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ভোগ। ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে প্রায় সাত কিলোমিটার। এতে সড়কে খানাখন্দ, নির্মাণসামগ্রীর স্তূপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আবার বিকল হচ্ছে যানবাহন, চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে পথচারীদের। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তা-সোনাপুর চার লেন প্রকল্পের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ভোগ। ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে প্রায় সাত কিলোমিটার। এতে সড়কে খানাখন্দ, নির্মাণসামগ্রীর স্তূপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আবার বিকল হচ্ছে যানবাহন, চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে পথচারীদের। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে নানা আন্দোলনও করেছে নাগরিক সমাজ। টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে সড়ক বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমুহনী চৌরাস্তা-সোনাপুর সড়কে কোথাও পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়েছে। কোথাও খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, স্তূপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী, কোথাও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, আবার কোথাও গ্যাসের রাইজার। এমন চিত্র নোয়াখালী পৌরশহরজুড়ে। মাইজদী বাজার থেকে সোনাপুর পর্যন্ত অন্তত সাত কিলোমিটার সড়কজুড়ে একই দৃশ্য। সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিকল হচ্ছে যানবাহন, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমন দুর্ভোগ পাঁচ বছর ধরে দেখে আসছে জেলার লাখো মানুষ।

নোয়াখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম ঢাকা রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার গাড়িগুলো প্রায়ই বিকল হচ্ছে। মাত্র ছয়-সাত কিলোমিটার সড়কের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। একই সঙ্গে তিন ঘণ্টার স্থলে যাতায়াতে সময় লাগছে সাড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুকনো মৌসুমে ধূলায় ধূসর আর বর্ষায় কাদাপানিতে থই থই অবস্থা থাকে সড়কে। এমন দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলনও করেছেন নাগকিরা। তবুও যেন দেখার কেউ নেই।

নোয়াখালী নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব জামাল হোসেন বিষাদ বলেন, পাঁচ বছর সময় নিয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যে সমন্বয় থাকার কথা সেটা ছিল না। ফলে সড়কের কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে রয়েছে, কোথাও গ্যাসের রাইজার, কোথাও পানির লাইন। আবার দেখা গেছে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে যেসব ভবন ভাঙা হয়েছে সেগুলো পুনরায় নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে সড়কে। এতে অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

সড়ক জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে নোয়াখালী পৌরশহরের সোনাপুর থেকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে সড়ক জনপথ বিভাগ। এর মধ্যে শহর এলাকায় দেড় কিলোমিটার ৯০ ফুট বাকি অংশ ৭২ ফুট প্রশস্ত করা হবে সড়ক। বর্তমানে সড়কটি দুই লেনে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত। প্রকল্পের  চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে মাইজদী বাজার পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প শেষ করতে ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। বর্তমানে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১-এর জুনে। কিন্তু দেখা গেছে, ধীরগতির কারণে কাজ শেষ করা যায়নি, ফলে পুনরায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে প্রধান সড়কে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বেশির ভাগ যানবাহন চলাচল করছে পৌর এলাকার সংযোগ সড়কে। এতে করে সংযোগ সড়কেও তৈরি হচ্ছে খানাখন্দ। আবার যানজটের কবলেও পড়তে হচ্ছে সড়ক ব্যবহারকারীদের।

সড়ক বিভাগ বলছে, শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়েই চার লেনের কাজ শুরু করে তারা। প্রথম দিকে জমি অধিগ্রহণ, এর পর বিদ্যুৎ বিভাগ বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাজের ধীরগতির কারণে কাজে বেগ পেতে হয়েছে তাদের। তবে সব প্রতিবন্ধকতা সারিয়ে স্বল্পসময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সড়ক বিভাগ।

নোয়াখালী সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী . মোহাম্মদ আহাদ উল্যাহ জানান, শুধু সড়ক বিভাগ কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ভূমি বিভাগও রয়েছে। এটি একটি সমন্বিত কাজ। শুরু থেকে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ছিল, এরই মধ্যে তা শেষ হয়েছে। এখনো বিদ্যুতের খুঁটি গ্যাসের রাইজারগুলো সরানো হয়নি। বার বার তাগাদা দিয়েও এসব কাজ শেষ করতে না পারায় মূল সড়ক উন্নয়নে কিছু সময় লাগছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করতে পারব।

তিনি আরো জানান, যানবাহন পথচারীকে যাতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশে ইটের সলিং বালি দেয়া হয়েছে। এতে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমেছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা সড়ক জনপথ বিভাগ, পৌরসভা, পিডিবি বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

 


আরও