বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শনে কক্সবাজার সফর করেছে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ প্রতিনিধিদল। কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ) এবং ঢাকার ব্রিটিশ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা এ প্রতিনিধিদলে ছিলেন। এ সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের মানবিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
আজ ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরে প্রতিনিধিদল মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি–সংক্রান্ত সেবাও পরিদর্শন করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য-সৌদি আরব কৌশলগত সহায়তা সংলাপে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র এবং যুক্তরাজ্য সরকার যৌথভাবে ৭৮ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে। এ সহায়তা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এফোর্ট বাংলাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের মানবিক অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী হচ্ছে। এর আওতায় যৌথ অর্থায়ন উদ্যোগ এবং নীতিগত সংলাপও রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনে কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতির ধারাবাহিকতায় এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে। ওই যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় দুই পক্ষের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
সফরের সময় প্রতিনিধিদল অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পারে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কীভাবে পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে, তাদের জীবনযাত্রার উন্নতি হচ্ছে এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সফরের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে কার্যকর ও নীতিনিষ্ঠ মানবিক সহায়তা নিয়ে থাকার বিষয়ে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের পরিচালনা ও কর্মসূচি বিভাগের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক জেনারেল আহমেদ বিন আলী আল-বাইজ বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এ সহযোগিতা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা আরো বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্ভোগ কমানো এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির যৌথ অঙ্গীকারও আরো শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত। এ সফর দুই পক্ষের ক্রমবর্ধমান মানবিক অংশীদারত্ব এবং প্রয়োজনের সময়ে মানুষের পাশে থাকার যৌথ অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।