ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, আবেদন শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি

সভায় আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি’র নাম পরিবর্তন করে ‘আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। দেশের প্রাচীনতম এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোটা রয়েছে।

২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় প্রোগ্রামের নাম পরিবর্তন ও নতুন কোটা অন্তর্ভুক্ত করার মতো বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি’র নাম পরিবর্তন করে ‘আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। দেশের প্রাচীনতম এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোটা রয়েছে। তবে এবারই প্রথম ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কোটা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিগত শিক্ষাবর্ষগুলোতে পাঁচটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউনিট থাকবে চারটি। ইউনিটগুলো হলো, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং চারুকলা ইউনিট।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা ও পরীক্ষার মানবণ্টনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক (এসএসসি) বা সমমান এবং ২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার (চতুর্থ বিষয়সহ) জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ ও আলাদাভাবে ৩ দশমিক ৫০, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য দুই জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩; ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের জন্য এসএসসি-এইচএসসির জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩, এবং চারুকলা ইউনিটের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে।আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ২০ মার্চ। ১৮ এপ্রিল থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

আগামী ২৯ এপ্রিল ‘চারুকলা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষার (সাধারণ জ্ঞান ও অংকন) মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৬ মে ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ১২ মে ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, এবং সর্বশেষ ১৩ মে ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকল ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ‘চারুকলা ইউনিট’ ব্যতীত অন্য তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় চারুকলা ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৫ মিনিট করে মোট ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে ৬০ নম্বরের বহু নির্বাচনী এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুধুমাত্র চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৩০ মিনিটে ৪০ নম্বরের বহু নির্বাচনী এবং ৬০ মিনিট ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অথবা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।

আরও