টানা তিনদিন পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
রাঙ্গামাটি জেলা ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, রাঙ্গামাটি শহরে ১১টিসহ জেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া জেলার দশ উপজেলায় প্রায় ১০০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের রুপনগর, শিমুলতলী, মুসলিম পাড়াসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকেন্দ্র।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সকালে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপ্রবণ শিমুলতলী পাহাড়ের ঢাল, রূপনগর এলাকার পাহাড়ের ঢাল এবং লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল এলাকা এবং আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, পুলিশ এবং রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসন সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া নূরজাহান বেগম বলেন, আমার ঘরের কয়েকটি খুঁটি মাটি থেকে সরে গেছে তাই আমার নাতিসহ এখানে আশ্রয় নিয়েছি।
রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা বলেন, আজকে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলায় ১৯০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। এ মাত্রার বৃষ্টিপাতকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নিশাত শারমিন বলেন, লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসা শুরু করেছে। প্রাণহানি যেন না ঘটে সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলায় কত লোক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় কত হাজার লোক ঝুঁকিতে রয়েছে তার পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে ইতোমধ্যে পৌরসভার লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ৯০ জন এবং কাউখালীতে ৬০ জন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।