ঝুঁকিপূর্ণ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশ থেকে চলাচলরত সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই, কাতার, সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোও তাদের বেশির ভাগ ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রানজিট নিয়ে যেসব ফ্লাইট পরিচালিত হয়, সেগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করছে বলে একাধিক এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে।
ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় আটকে পড়া যাত্রীদের দেখতে যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় তিনি যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দেন। ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও বাংলাদেশী যাত্রীরা আটকা পড়েছেন।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দুবাইয়ের সব বিমানবন্দরের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং আল মাকতুম বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না গিয়ে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ইরানে গতকাল সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার কথা জানায় এয়ারলাইনসগুলো।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট হোল্ড করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইট (বিজি৩৪৯) মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও কুয়েতগামী যাত্রীদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীরা যেন বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ না করে বিমানবন্দরে ভিড় না করেন। যেকোনো তথ্যের জন্য বিমানের কল সেন্টার নম্বর ১৩৬৩৬-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের সব মধ্যপ্রাচ্যগামী উড়োজাহাজ বর্তমানে ‘গ্রাউন্ডেড’ রাখার কথা জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আর দুবাইতে থাকা একটি ফ্লাইট সেখানে নিরাপদে অবস্থান করছে।’
একইভাবে গতকাল বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইনসগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের খবর যাত্রীদের এসএমএস, ই-মেইল বা কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগেই জানাতে হবে। এয়ারলাইনস কর্মীদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করতে হবে। ভ্রমণ পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইনস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও অপারেশনাল স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট স্থগিত থাকায় ওমান, কুয়েত, আবুধাবি, শারজাহ, কাতার, দুবাই, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ায় অনেকেই টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ তিনি ঘুরে দেখেন এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। প্রয়োজন হলে যাত্রীদের হোটেল সুবিধা, খাবার ও আপডেট তথ্য দেয়ার কথাও বলেন।