সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য ও মাফিয়াবৃত্তির অবসান হবে -রুহুল কবির রিজভী

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির পটভূমি থেকে আসা এসব নেতা তাদের নতুন চিন্তা ও ধারণা প্রয়োগ করে সড়ক পরিবহন খাতের অচলাবস্থা নিরসন, পরিবহন খাতকে আইনসংগত করা এবং যাত্রীসেবায় দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’

সড়কে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সদ্য গঠিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘নতুন এ কমিটির মাধ্যমে সড়ক পরিবহনে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাফিয়াবৃত্তির অবসান ঘটবে।’

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফেডারেশনের নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির পটভূমি থেকে আসা এসব নেতা তাদের নতুন চিন্তা ও ধারণা প্রয়োগ করে সড়ক পরিবহন খাতের অচলাবস্থা নিরসন, পরিবহন খাতকে আইনসংগত করা এবং যাত্রীসেবায় দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’

তিনি বলেন, ‘নবনির্বাচিত এ কমিটির নেতৃত্বে সড়ক পরিবহন খাতের যে দুরবস্থা ও বেহাল দশা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে দেশের মানুষকে একটি নতুন ব্যবস্থাপনা দেয়া সম্ভব হবে। এতে মানুষের আস্থা বাড়বে, তারা নিরাপত্তা বোধ করবে এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বস্তি আসবে।’

একই দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রুহুল কবির রিজভী। সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তখন গুণগত শিক্ষা দেয়ার চেয়ে কেবল ৯০-৯৫ শতাংশ পাসের হার দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর মহল থেকে ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটি জাতির মেরুদণ্ড যদি দুর্বল হয়, তবে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘বিগত আমলগুলোয় অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের ফলে আমাদের শিক্ষার কোয়ালিটি অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে।’

এ সময় বিএনপি শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সচেতন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনো তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে সুযোগ সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করে, তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ চলমান প্রক্রিয়ায় আগামী দিনগুলোয়ও শিক্ষকদের স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।’

শিক্ষকদের মর্যাদাদানের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘পূর্বে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেয়া হতো, যা বর্তমান সরকার বাড়িয়ে শতাধিক শিক্ষকে উন্নীত করেছে। আগামীতে এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব শিক্ষক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং নিজেরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের উপযুক্ত মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।’

সমাবেশটিতে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশজুড়ে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও