সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বন্ধে ঢাকা শহরে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘লটারি পদ্ধতি চালুর পর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ চলছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারক আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও “বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি” করেছেন। এর ফলে দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।’
বাক-স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। একই সঙ্গে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হননের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।’
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনে উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনটি যথেষ্ট নয় মনে হওয়ায় সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে মানুষের বাক-স্বাধীনতার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় প্রধানমন্ত্রী তা আরো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি সাব-কমিটিতে পাঠিয়েছেন। পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের কোনো পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনা করা হবে এবং সম্ভব হলে তাদের উদ্বেগ ও সুপারিশ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও সরকার নজর দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।’ পরে প্রশাসন ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না’—বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। সভায় সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।