কাতারের সাবেক আমিরের স্মরণে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে রাজধানীর একটি সড়কের নামকরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার বিকালে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের আনা কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করা সম্পর্কিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান সংসদ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে সরকারের পক্ষ তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, গতকালকেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি উপযুক্ত সড়ক নির্ধারণ করে সেটিকে মরহুমের নামের নামকরণের জন্য আমি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাতারের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। কাতার এমন একটি দেশ যারা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে এবং এখনো করছে।

তিনি বলেন, লাখ লাখ বাংলাদেশীকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে কাতার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রাতেও অংশীদার। শুধু তাই নয়, এর ভেতরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কাতার নিজেও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের লাখ লাখ প্রবাসীকে তারা নিজেদের নাগরিকদের মত টেক কেয়ার করেছে। তাদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে মরহুম শেখ হামদ বিন খলিফা আল থানির জন্য আজকে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজকে আমাদের জাতীয় পতাকাকে হাফ মাস্ট করা হয়েছে।

এর আগে আজ বাদ জোহর জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদ সচিবালয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম মো. আবু রায়হান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দোয়া ও মোনাজাতে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সফলতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও