সরকার তারল্য সহায়তা দিলে অনেক এনবিএফআই ঘুরে দাঁড়াবে

মো. মামুনুর রশীদ মোল্লা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি সিভিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি ও সিইওর দায়িত্বে ছিলেন। আর্থিক খাতে ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ব্যাংকার সম্প্রতি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন

দেশের এনবিএফআই খাতের কী অবস্থা? কেমন চলছে এখন খাতটি?

এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আশার কথা হলো, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। আমি মনে করি, সামনে আরো ভালো করার সুযোগ রয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে কিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে এনবিএফআই খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের মতো এনবিএফআই খাতেও খেলাপি ঋণের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছিল। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার উপায় কী?

এটা ঠিক যে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে এনবিএফআইগুলো দুর্বল অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হলো খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও অনেক প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের ঘাটতি। দেশে মোট ৩৫টি এনবিএফআই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯টির খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশের বেশি ছিল। ২০২৫ সালের শেষে এসে পুরো খাতে গড় খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ এত বেশি হয়, তখন তার মুনাফা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। একদিকে ওই ঋণের বিপরীতে শতভাগ পর্যন্ত প্রভিশন (সঞ্চিতি) রাখতে হয়, অন্যদিকে সেই ঋণ থেকে কোনো আয় আসে না। কিন্তু আমানতকারীদের ঠিকই সুদ দিতে হয়। ফলে এখানে একটি ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে গত দেড়-দুই বছরে ব্যাংক খাতে সংস্কারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেমন এখন ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ জামানত ছাড়া দেয়া যায় না। সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে ঋণ দিলে তা খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে খাতটি আবারো অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ খাতে দুর্বল অবস্থা তৈরি হওয়ার পেছনে আপনি খেলাপি ঋণের কথা বলছেন। কিন্তু খেলাপি ঋণ এতটা পুঞ্জীভূত হলো কী করে?

যদি পরিসংখ্যান দিয়ে বলি, ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মোট ঋণ পোর্টফোলিও এখন প্রায় ৭৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ আমানত রয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এখানে একটি বড় ঘাটতি আছে। এ ঘাটতি পূরণ করতে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নিতে হয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো আমাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিত। কিন্তু এখন অনেক ব্যাংকই এনবিএফআইকে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ফলে নগদ প্রবাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো, কিছু নেতিবাচক প্রচারণার কারণে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এতে অনেকে একসঙ্গে আমানত তুলে নিতে শুরু করেন। তবে গত এক বছরে সেই চাপ অনেকটা কমেছে। আমরা ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দিচ্ছি। এখন মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে।

আপনি ব্যাংকেও ছিলেন, এখন এনবিএফআই খাতে দায়িত্ব পালন করছেন। এনবিএফআইয়ের লোকজন অনেক সময় বলেন যে ব্যাংক ও এনবিএফআই একই ধরনের গ্রাহককে সেবা প্রদান করে। ফলে এনবিএফআইয়ের পরিধি কার্যতই কম হওয়ায় তারা ব্যাংকের সঙ্গে পেরে উঠছে না। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের সুযোগ অনেক বেশি। তারা চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাবসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত নিতে পারে। কিন্তু এনবিএফআই মূলত মেয়াদি আমানত বা এফডিআরের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের মোট আমানতের প্রায় ৯২ শতাংশই উচ্চসুদের আমানত। ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ৬০ শতাংশ বা তারও কম। ফলে আমাদের তহবিল সংগ্রহ ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। ধরুন, আমরা যদি ১০-১১ শতাংশ সুদে আমানত নিই এবং ১ শতাংশ রিজার্ভ রাখতে হয়, তাহলে তহবিলের খরচ প্রায় ১২ শতাংশ হয়ে যায়। তার ওপর ২ শতাংশ মুনাফা করতে চাইলে আমাদের ১৪-১৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হয়। এ কারণে ব্যাংকের মতো ভালো গ্রাহকদের আমরা সবসময় আকর্ষণ করতে পারি না।

আরেকটি বড় সমস্যা ছিল ঋণের ঘনত্ব। অনেক প্রতিষ্ঠান বড় করপোরেট গ্রুপকে বড় অংকের ঋণ দিয়েছে। যদি একটি বড় ঋণ খেলাপি হয়, তখন পুরো প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিপরীতে ধরুন, ১০০ কোটি টাকা যদি একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় এবং সেটি খেলাপি হয়, তাহলে পুরো অর্থ ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু একই অর্থ যদি ১০০ জনকে দেয়া হয়, তাহলে কিছু ঋণ খারাপ হলেও বেশির ভাগ ঋণ ভালো থাকে। কিন্তু ছোট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে জামানত-সংক্রান্ত কাগজপত্র। জমি বন্ধক দিলে মূল দলিল, বিভিন্ন রেকর্ড, মিউটেশন, খাজনা—এসব নথি প্রয়োজন হয়। এগুলো সংগ্রহ করা অনেকের জন্য কঠিন। এছাড়া ছোট ঋণে পর্যবেক্ষণ ব্যয়ও বেশি। একজন গ্রাহককে পর্যবেক্ষণের বদলে শতজনকে পর্যবেক্ষণ করাটা বেশ কঠিনই বটে। তবু ভবিষ্যতে এদিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।

অনেক সময় শোনা যায় যে অনেক ঋণগ্রহীতা পরিশোধ না করলেও বড় অংকের ঋণ পান। বিপরীতে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করা যায় কীভাবে?

আশার কথা হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সিএমএসএমই ঋণ দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করছে। আমরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে সহজভাবে ঋণ দিতে পারি। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বেশি হলে ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের কারণে আমাদের কোল্যাটারাল সিকিউরিটি নিতে হয়। যখনই সিকিউরিটির বিষয় আসে, ডকুমেন্টের ব্যাপারটা জটিল হয়ে যায়। ধরুন, কেউ জমি বন্ধক রাখতে চাইলে তার অরিজিনাল ডিড, বায়া ডিড, সিএস পর্চা, আরএস পর্চা, এসএ পর্চা, মিউটেশন পর্চা, আপডেট খাজনা, ডিসিআর—এগুলো লাগবে। ছোট গ্রাহকদের জন্য এগুলো সংগ্রহ করা অনেক সময় কঠিন।

আরেকটা বিষয় আছে—ছোট ঋণের ক্ষেত্রে মনিটরিং খরচ বেশি। আগে আপনি একজন গ্রাহককে মনিটর করতেন, এখন ১০০ জনকে করতে হবে। এজন্য জনবলও বাড়াতে হয়। তবে এর পরও আমরা যদি এক ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে এ রকম ছোট ছোট ঝুড়িতে রাখতাম, তাহলে হয়তো এনবিএফআই খাত আজ আরো ভালো অবস্থানে থাকতে পারত।

মূল সমস্যা হলো, এ খাতকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো খাতটা ছোট নয়। ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো লোন পোর্টফোলিও আছে। দেশে ৩৫টি এনবিএফআই আছে। এর মধ্যে হয়তো চার-পাঁচ বা ১০টা সমস্যাগ্রস্ত। বাকিরা কিন্তু ভালো করছে। যদি নীতিগত সহায়তা একটু বেশি পাওয়া যেত, তাহলে সমস্যাগুলো সামাল দেয়া আরো সহজ হতো।

উদাহরণ হিসেবে বলি, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিলাম। যদি তারা ৩০০ কোটি টাকাও দিত, তাহলে যারা এফডিআর ভাঙাতে আসছিলেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে পারতাম। মানুষের আস্থা ফিরে আসত।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আমরা সাধারণত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট বা অর্থঋণ আদালত—এ দুই আইনি পথেই খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করি। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, অনেক বড় ব্যবসায়ী এমনকি কিছু ব্যাংকের পরিচালকও আমাদের কাছ থেকে নেয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ করেন না। অনেকে বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ করেন না—১০ বছর, ১৫ বছর, এমনকি ২০ বছরও। এত দীর্ঘ সময়ে তো একজন মানুষ মারা যেতে পারেন। আমাদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে—একজন গ্রাহক টাকা না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়েছেন, দুদিন পর তিনি মারা গেছেন।

এসব বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার। আমি মনে করি, একটি ব্যাংকিং রিফর্ম কমিশন গঠন করে প্রতিটি ঋণের কেস স্টাডি করা উচিত—কেন ঋণ দেয়ার সময় সমস্যা হয়েছে, কেন রিকভারি হয়নি। সে অনুযায়ী ভবিষ্যতের নীতিমালা তৈরি করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসা উচিত।

অন্য দেশে অনেক এনবিএফআই নির্দিষ্ট পণ্য বা সেগমেন্টে কাজ করে সফল হয়েছে। বাংলাদেশে সেটা কম কেন?

আমাদের দেশেও উদাহরণ আছে। ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং বা হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট পণ্য নিয়ে কাজ করে। তাই তাদের খেলাপি ঋণের হারও খুব কম। কিন্তু আমরা অনেক সময় অতিরিক্ত বৈচিত্র্যায়ণের দিকে ঝুঁকে পড়ি। নির্মাণ, অবকাঠামো, মূলধন বিনিয়োগ, যন্ত্রপাতি—সব ধরনের ঋণ দিয়েছি। এখানে যদি ক্রেডিট অ্যাপ্রেইজাল ঠিকভাবে না হয়, তাহলে সমস্যা হয়। ধরুন, একজনের দরকার ছিল ১০ কোটি টাকা, কিন্তু সে ৫০ কোটি টাকার আবেদন করল এবং আমরা তা দিয়ে দিলাম। এটাকে বলে ওভার ফাইন্যান্সিং। এতে ফান্ড ডাইভার্ট করার সুযোগ তৈরি হয়।

আরেকটা বিষয় হলো নেম লেন্ডিং। বড় নাম দেখেই অনেক সময় ঋণ দেয়া হয়েছে যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া। অনেক ক্ষেত্রে এ রকম প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ঋণ পরিশোধ করবে না কিংবা নীতিসহায়তার নামে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দীর্ঘ সময় চেয়ে নেয়। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত তো আমানতকারীরা তাদের টাকার জন্য অপেক্ষা করবে না। এভাবেই তো আমাদের নগদ প্রবাহ বিঘ্নিত হয়।

অতীতের নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে এখন আবার বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব ব্যবসায় কতটা পড়বে বলে মনে করেন আপনি?

বিশ্ব এখন অস্থিরতার মধ্যে আছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আছে। এসবের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদেরও চাপ বাড়ে। আবার আমাদের মূল্যস্ফীতিও প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এটা সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ তৈরি করে। তবে নতুন সরকার কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে; কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এগুলো সফল হলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের অবস্থা এখন কেমন?

ফিনিক্স ফাইন্যান্স এখন নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগের বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড দিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানসহ অভিজ্ঞ কয়েকজন পরিচালক আছেন। আমাদের কিছু মর্টগেজ সম্পদ আছে, সেগুলো বিক্রির চেষ্টা করছি। গত বছর আমরা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা রিকভারি করেছি। খেলাপি ঋণ প্রায় ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। এ বছরের লক্ষ্য হলো সেটাকে ৩০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। সেটা সম্ভব হলে আমি বিশ্বাস করি এক-দেড় বছরের মধ্যে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ঘুরে দাঁড়াবে।

একসময় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল এবং অনেকেই টাকা তুলে নিচ্ছিলেন। এখন পরিস্থিতি কেমন?

আগে যদি ধরেন ৫০ শতাংশ গ্রাহক টাকা তুলতে চাইতেন, এখন সেটা নেমে এসেছে প্রায় ১০ শতাংশে। আমরা প্রায় ৪০ শতাংশ চাপ সামাল দিতে পেরেছি। আশা করছি, এ বছর বাকি অংশও সামাল দিতে পারব।

মর্টগেজ সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে কি কোনো জটিলতা আছে?

অবশ্যই আছে। কোল্যাটারাল সিকিউরিটির ক্ষেত্রে দুটি বড় ঝুঁকি থাকে—কোল্যাটারাল কন্ট্রোল রিস্ক ও কোল্যাটারাল কাভারেজ রিস্ক। কখনো দেখা যায়, যে জমি বন্ধক দেয়া হয়েছে তা বাস্তবে গ্রাহকের দখলে নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে ডকুমেন্টে সমস্যা থাকে বা জমির অবস্থান ভিন্ন থাকে। এসব ক্ষেত্রে আমরা আদালতের মাধ্যমে মিউটেশন করে আমাদের নামে এনে তারপর বিক্রি করি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমরা বড় করপোরেট ঋণ থেকে বেরিয়ে আসছি। এখন হাউজ বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট, গাড়ি, সিএমএসএমই, কনজিউমার ও পারসোনাল লোনে মূল নজর দিচ্ছি। এছাড়া একটি স্পেশাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন করেছি, যাদের কাজ হচ্ছে ঋণ আদায়ের জন্য নিয়মিত চাপ তৈরি করা। আর ডিপোজিট বাড়াতে একটি লায়াবিলিটি ও মার্কেটিং টিম গঠন করেছি। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দিয়ে সারা দেশে কাজ করানোর পরিকল্পনা আছে।

সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কী প্রত্যাশা?

আমার প্রথম অনুরোধ—রেগুলেটর যেন কখনো না বলে যে এ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ধরনের কথা বললে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সরকার যদি এনবিএফআইগুলোকে ২০০-৩০০ কোটি টাকা করে তারল্য সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আমরা চাইলে সফট লোনও নিতে পারি এবং কিস্তিতে সুদসহ পরিশোধ করতে পারি। এগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতীতেও রেখেছে।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে আপনার আশাবাদ কতটা?

আমি আশাবাদী। জাতি অনেক কঠিন সময় পার করেছে। ১৯৭১ সালে পেরেছে, সাম্প্রতিক সময়েও পরিবর্তন এনেছে। আমাদের দরকার শুধু অনুপ্রেরণা এবং নৈতিক সমর্থন। সবাই যদি বলে ‘সবকিছু বন্ধ করে দাও’ তাহলে সমস্যা বাড়বে। কিন্তু যদি সবাই সহযোগিতা করে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ আরো শক্তভাবে দাঁড়াবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি কাজের শক্তিতে পরিণত করা যায়, তাহলে এ দেশের চেহারাই বদলে যাবে।

আরও