২০২৬ সালের সিআইপি মর্যাদা পেলেন ৮৬ প্রবাসী, শীর্ষে আরব আমিরাত

সরকার মোট তিনটি বিভাগে এ বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি নির্বাচন করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও তালিকায় সর্বোচ্চ স্থান দখলে রেখেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা। দেশটি থেকে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন ৪১ জন। এছাড়া ওমান থেকে ৭ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ৬ জন, এবং আমেরিকা ও কাতার থেকে ৫ জন করে নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশীকে সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) হিসেবে নির্বাচিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রেরণের জন্য তিনটি ক্যাটাগরিতে ২০২৬ সালের জন্য তারা সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সিআইপি নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ সনদ তুলে দেয়া হবে। সরকার মোট তিনটি বিভাগে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি নির্বাচন করেছে।

বাংলাদেশে শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারী অনিবাসী বাংলাদেশী ক্যাটাগরিতে একজন, বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশী ক্যাটাগরিতে ৭৫ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশী পণ্যের আমদানিকারক অনিবাসী বাংলাদেশী ক্যাটাগরিতে ১০ জনসহ সর্বমোট ৮৬ জন প্রবাসীকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রবাসীরা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। এই দেশটি থেকেই সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন ৪১ জন। এছাড়া ওমান থেকে ৭ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ৬ জন এবং আমেরিকা ও কাতার থেকে ৫ জন করে নির্বাচিত হয়েছেন। তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও।

চট্টগ্রাম জেলার ৩৪ জন সিআইপির মধ্যে উপজেলার দিক থেকে শীর্ষস্থান দখল করেছে হাটহাজারী (৯ জন) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাউজান (৮ জন)। এছাড়াও নির্বাচিতদের মধ্যে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, পাঁচলাইশ, পটিয়া, চান্দগাঁও ও চকবাজারসহ কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ঢাকা, মৌলভীবাজার, জামালপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝালকাঠি ও নরসিংদীর প্রবাসীরা রয়েছেন।

বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশী ক্যাটাগরিতে ২০২৬ সালের জন্য আরব আমিরাত থেকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন—চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মোহাম্মদ রুবেল, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ খালেদ, আবুল হাসেম, নিজাম উদ্দিন ও নূর নবী।

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে রয়েছেন নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, সেলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ জাফর, মো. ওসমান আলী, ফরিদুল আলম ও হাসান মোরশেদ। ফটিকছড়ির ওসমান গণি এবং সাতকানিয়ার মহিউদ্দিন তালুকদার ও শহিদুল ইসলামও রয়েছেন তালিকায়।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থেকে সিআইপি হয়েছেন মাহাবুল আলম ও শেখ আবদুল আজাদ। পটিয়ার মুহাম্মদ আবুল বশর ও আবছার উদ্দিন, চান্দগাঁওয়ের মনজুরুল হক চৌধুরী ও আমিনুল হক এবং চকবাজারের শফিকুল ইসলাম রাহীও সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন—কুমিল্লার রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজারের জয়নাল আবেদীন, বোয়ালখালীর শফিউল আলম, চাঁদপুরের মজিবুর রহমান, নোয়াখালীর মো. ইলিয়াছ, ঢাকার কামরুল হাসান, মোহাম্মদপুরের মঈন হোসেন, মৌলভীবাজারের রুকন উদ্দিন ও আব্দুল করিম, জামালপুরের আল আমিন, সিলেটের ফাহিম আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আতিকুর রহমান ও মো. সামছুজ্জামান, ঝালকাঠির সিফাতউল্লাহ, কুমিল্লার শফিকুল ইসলাম এবং নরসিংদীর রাশেদুল হাসান মিন্টু। নির্বাচিত সিআইপিরা আগামী দুই বছর রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের পাস, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, বিমান, রেল ও সড়কপথে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার, বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ‘চামেলী’ ব্যবহারের সুবিধা এবং নিজের ও পরিবারের সুচিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা।

সিআইপি সংখ্যায় আমিরাত প্রবাসীরা এগিয়ে থাকায় কমিউনিটি ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের এই স্বীকৃতি তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে।

আরও