বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে আল বদর-রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী হত্যা করেছিল। তারা স্বাধীনতা চায়নি, দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সাধারণ ক্ষমা হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পেয়েছে তারা।
তিনি আরো বলেন, তারা (আল বদর-রাজাকার) সেই সাধারণ ক্ষমাকে সম্মান দিতে পারেনি। কখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আবার কখনো আওয়ামীলীগ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু দেশের জন্য লড়াই, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেদেরকে দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে দৃশ্যমান করে তুলে ধরতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের ঝুমুর এলাকায় বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এ্যানি বলেন, বিগত ১৭ বছর আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসবে, আমরা এমন বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই বিশ্বাস, ঐক্যে কেন ফাটল ধরেছে?
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসনে থেকেও দলকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে যেসব দল ভূমিকা রেখেছে, সেসব রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট পালিয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র থামেনি। দেশে ও দেশের বাইরে বসে নির্বাচনকে বানচালের জন্য ফ্যাসিস্টরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ ষড়যন্ত্রের পেছনে সেই চিহ্নিত অপরাধী-সন্ত্রাসীরা জড়িত। কারা তাদের শেল্টার দিচ্ছে? এটা খুঁজে বের করা সবার দায়িত্ব।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ অনেকে।