উত্তরায় পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৯ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর ও একটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী এলাকায় গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গত সোমবার থেকে আন্দোলন করে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগে একাধিকবার রাস্তা অবরোধ করলেও গতকালই প্রথম পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৯ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর ও একটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী এলাকায় গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গতকাল সকাল ১০টার দিকে কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট ও জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে তারা রাজলক্ষ্মী-সংলগ্ন উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে একত্র হন। সেখান থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে শিল্প পুলিশের কার্যালয়-সংলগ্ন একটি গলিতে পুলিশের পিকআপ প্রবেশের সময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মূল সড়কে ডিএমপি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে আনুমানিক ২৫-৩০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে গলিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় শিল্প পুলিশের পিকআপটি সামনে পড়লে হামলা চালানো হয়। পরে চালক ও গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যরা নেমে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

একই সময়ে এপিবিএনের এক সদস্য মোটরসাইকেলে করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, সংঘর্ষের সময় শ্রমিকরা শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর করেন। পুলিশের এক সদস্যকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বার্তা আমরা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। তার পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে। আন্দোলনের একটি অংশ খুব মারমুখী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে শুধু আমাদের (শিল্প পুলিশ) গাড়ি বা সদস্য নয়, আরো পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ এবং হামলাকারীদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ আন্দোলনের প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তৈরি পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এর আগে ২০০৬ সালে নিম্নতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়কে সামনে এনে সম্প্রতি শ্রমিক সংগঠনগুলো আবারো মজুরি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। কোনো কোনো সংগঠন মাসিক নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি তুলেছে। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ এবং ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছিল।

আরও