এইচআইভি ও যক্ষ্মা প্রতিরোধে সারা দেশে সেবা কেন্দ্র চালু করতে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

একনেকে উঠছে আজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিন বছরে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। এছাড়া যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৫ লাখ রোগীকে টিবি প্রিভেনটিভ ট্রিটমেন্ট এবং ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ জন যক্ষ্মা রোগীকে পুষ্টি সহায়তা দেয়া হবে।

সারা দেশে যক্ষ্মা ও এইচআইভি-এইডস রোগ প্রতিরোধে রোগীদের চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা ১০টি জেলায় একই ধরনের চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হবে। এমন একটি প্রকল্প আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

জানা গেছে, এইচআইভি, যক্ষ্মা (টিবি) ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ শনাক্তকরণ এবং রোগীদের পুষ্টি সহায়তা দিতে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট অ্যাগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড অনুদান হিসেবে দেবে ৮৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী ও ৯৫৯ কোটি টাকার ওষুধ ও টিকা কেনা হবে। প্রকল্পটি পাস হলে ২০২৭ থেকে ২০২৯ তিন বছর সেবা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিন বছরে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। এছাড়া যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৫ লাখ রোগীকে টিবি প্রিভেনটিভ ট্রিটমেন্ট এবং ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ জন যক্ষ্মা রোগীকে পুষ্টি সহায়তা দেয়া হবে। প্রকল্পে ৬৪ জেলার প্রধান হাসপাতালে একটি করে এইচআইভি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হবে। যেখানে ১৭ হাজার ৭০০ জনকে এইচআইভি পজিটিভ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হবে। এছাড়া তিন হাজার শিশুসহ মোট ৩ হাজার ৭৬০ জন এইচআইভি রোগীর সঙ্গে বসবাসকারীকে দেয়া হবে চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা। যক্ষ্মা ও এইচআইভি রোগীদের জন্য সারা দেশে এ সেবা চালু থাকলেও ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকা ১০ জেলায় চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সেবা চালু থাকবে। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে ম্যালেরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই লক্ষ্য।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লেও থেমে নেই যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়ার মতো মরণব্যাধি। অন্যদিকে মহামারী আকার ধারণ না করলেও নীরবে বাড়ছে এইচআইভি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৯১টি, যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৪৩৮টির তুলনায় ৪৫৩টি বেশি। তবে নতুন প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসাধীন ৯ হাজার ৪০০ এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিকে এক বছর ধরে মাসে ৮২০ টাকা করে পুষ্টিসহায়তা দেয়া হবে।

আগামী তিন বছরে ৯৫ শতাংশ এইচআইভি রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এইচআইভি) ডা. খায়রুজ্জামান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এইচআইভি প্রান্তিক পর্যায়ে যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সন্দেহভাজনদের পরীক্ষা করে চিকিৎসা দিতে এ উদ্যোগ। এখানে প্রথম ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সংক্রমণে সন্দেহভাজনদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে। সেখানে স্ক্রিনিং করে এইচআইভি পজেটিভ হলে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে পরীক্ষা শেষে দেশের ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। এখানে আমাদের লক্ষ্য এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ৯৫ শতাংশকে পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।’

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসসীম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পটি মূলত যক্ষ্মা, এইচআইভি রোগ প্রতিরোধ এবং ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে সব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে। এজন্য জেলা হাসপাতালে একটি করে পরীক্ষা সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে। যক্ষ্মা ও এইচআইভি পরীক্ষা সেখানে হবে। আর ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ১০টি জেলায় পরীক্ষা ও সেবা দেয়া হবে। এটি গ্লোবাল ফান্ড ও সরকারের অর্থায়নে হবে। এইচআইভির ক্ষেত্রে আমাদের পার্টনার হিসেবে আছে আইসিডিডিআর,বি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যালেরিয়া সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা, যক্ষ্মা কমিয়ে আনা এবং এইচআইভি ছড়ানো বন্ধ করা। প্রতিটি উপজেলা থেকে রোগ শনাক্ত করে তাদেরকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে।’

একনেকে উঠছে ১৬ প্রকল্প: সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে আজ সরকারের নবম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ১৭ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নয়টি নতুন, পাঁচটি সংশোধিত ও দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরও