ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ দুপুরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৪ জন যাবজ্জীবন সাজা ও ১০ জন খালাস পেয়েছেন।
এর আগে ২০ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। মামলার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে।
এরপর সিরাজ-উদদৌলার অনুগত কয়েকজন তাকে কারাগার থেকে বের করে আনার জন্য জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরদিন ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে নুসরাতকে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।