সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বিএনপি জোট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলের সিংহভাগ আসনেই জয় পেয়েছে। আর খুলনা, রাজশাহী, রংপুর উত্তরাঞ্চলে ভালো করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা।
দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় গণনা। গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপি জোট ১৭০টি ও জামায়াত জোট পেয়েছে ৪৫টি আসন। অন্য প্রার্থীরা পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ আসনে বিএনপি জয়লাভ করেছে। এছাড়া বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে আছে বিএনপি জোট।
ঢাকা জেলায় মোট সংসদীয় আসন ২০টি। গতকাল রাত ২টায় এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আসনেরই বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান বিজয়ী হয়েছেন। তাছাড়া ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির তমিজ উদ্দিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের আওতাভুক্ত নরসিংদী জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। গাজীপুরের পাঁচ আসনের চারটিতে, টাঙ্গাইলের আট আসনের ৭টিতে, কিশোরগঞ্জের ছয় আসনের পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ৫৮টি সংসদীয় আসনের বড় অংশই বিএনপির দখলে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপির ও দুটিতে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কুমিল্লার সংসদীয় আসন ১১টির আটটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-৭, কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছয়টি সংসদীয় আসনের পাঁচটিতে বিএনপি জোট এবং একটিতে স্বতন্ত্র জয়ী হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহত্তর নোয়াখালীর (ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর) ১৩ আসনের ১২টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। নোয়াখালী-৬ আসনে জয় লাভ করেছেন এনসিপির হান্নান মাসউদ। এছাড়া কক্সবাজারের চারটি এবং তিন পার্বত্য জেলার তিনটিতেই জয় পেয়ছে বিএনপি।
সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি একটিতে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনই জেতে পারেনি। সিলেট জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একমাত্র সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান দেয়াল ঘড়ি মার্কায় জয়লাভ করেছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৩টিতে। জামালপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি দুটির ফলাফল পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহের ১১টির বেশির ভাগ আসনে এগিয়ে আছে বিএনপি। আর নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা চারটিতে জয় পেয়েছেন, একটিতে জয় পেয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী।
এদিকে খুলনা ও উত্তরাঞ্চলে জামায়াত প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন। খুলনা বিভাগে সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৩৬টি। খুলনা জেলার আওতাধীন সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। এছাড়া যশোরের ছয় আসনের পাঁচটিতে, বাগেরহাটের চার আসনের তিনটিতে, খুলনার ছয়টি আসনের দুটিতে, ঝিনাইদহের চার আসনের তিনটিতে, নড়াইলে একটিতে, কুষ্টিয়ার তিনটিতে, চুয়াডাঙ্গার দুটি ও মেহেরপুরে দুটি আসনেই জয় পেয়েছে জামায়ত।
রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনে সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসনগুলোর ফলাফলে অপেক্ষাকৃত ভালো ফল করেছে জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই জয় পেয়েছে দলটি। এছাড়া রাজশাহীর চারটি সংসদীয় আসনের দুটিতে, পাবনায় তিনটিতে, সিরাজগঞ্জে একটি, নওগাঁর একটিতে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। রংপুর বিভাগের সংসদীয় আসন রয়েছে ৩৩টি। কুড়িগ্রামের তিনটিতে জামায়াত ও একটিতে এনসিপি, নীলফামারীতে চারটি, রংপুর পাঁচটি আসনে গতকাল রাত ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জয় পেয়েছে দলটি।