মৎস্য প্রজনন মৌসুমে বিকল্প আয়ে জেলে পরিবারে ঘুরছে ভাগ্যের চাকা

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে সরকারি প্রণোদনার ‘বিকল্প কর্মসংস্থান’ প্রকল্প।

দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে যখন জলাশয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে, তখন প্রান্তিক জেলে পরিবারগুলোর টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এ কর্মসূচি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ রিংকু বৈদ্যের (৩২) অভাবনীয় সাফল্য এর এক অনন্য উদাহরণ।

সাধারণত বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য খাল-বিল ও নদী-নালায় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। অমল বৈদ্যের মতো অনেক জেলের জন্য এ সময়টা সংকটকাল। এ সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি তাদের আয়ের বিকল্প সংস্থান করতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় সরকারি প্রকল্প। ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় অমলের স্ত্রী রিংকু বৈদ্যকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুটি উন্নত জাতের ছাগল দেয়া হয়।

রিংকু জানান, মাত্র ২২ মাসে দুটি ছাগল থেকে জন্ম নেয় ১১টি বাচ্চা। এবারের কোরবানির ঈদে আটটি ছাগল ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছাগল বিক্রির টাকায় আমরা নতুন ঘর তুলছি। বর্তমানে পালে আরো পাঁচটি ছাগল আছে। আমার বিশ্বাস, আগামী তিন বছরে পালে কমপক্ষে ৪০টি ছাগল হবে, যা আমাদের স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করবে।’

শুধু রিংকু বৈদ্যই নন, গোপালগঞ্জ জেলার আরো ৮০০ দরিদ্র জেলে পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের সন্ধান পেয়েছে। নারকেলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল কুমার রায় জানান, এ সহায়তার ফলে এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর দারিদ্র্য অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০২১ সালে প্রকল্পের শুরুতে ১০টি জেলায় দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল চার লাখ টন। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করায় জেলেরা প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন। ফলে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার টন। চলতি ২০২৬ সালের জুনে আরো ১৪ হাজার টন বেড়ে মোট উৎপাদন ৪ লাখ ৬৪ হাজার টনে (১৬ শতাংশ বৃদ্ধি) উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. খালিদুজ্জামান বলেন, ‘দেশীয় মাছ সংরক্ষণে আমরা ১০ জেলার ৮ হাজার ৪০৫টি পরিবারকে দুটি করে ছাগল দিয়েছি। কোটালীপাড়ার গৃহবধূ রিংকু এর মধ্যে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার মতো হাজারো পরিবার এখন বিকল্প আয়ে স্বাবলম্বী, আর এটাই আমাদের প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’

আরও