কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও ছিল। তাদের পরিচয়, বয়স ও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে গতকাল বিকালে ১৭৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছাড়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক সাদেকুর রহমান এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বণিক বার্তাকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে—এমন সব এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটকদের আগের কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। বাকি ৪৫১ জনকে অভিভাবক ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার আসামিদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।’