নড়াইলের লোহাগড়ায় যৌতুক না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন শেখ (৩০) নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মারধর ও আট মাসের শিশুসন্তানকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের অভিযোগে মামুনের স্ত্রী কুলসুম বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন। পরে রাতেই পুলিশ মামুন শেখকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত মামুন উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামুন পেশায় ট্রাকচালক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৩ বছর আগে মামুন শেখের সঙ্গে কুলসুমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান আছে। মামুন শেখ বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তাকে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এক বছর আগে কুলসুমের অনুমতি ছাড়াই মামুন আরেকটি বিয়ে করেন। মামুন সোমবার দুপুরে কুলসুমকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলেন। তবে কুলসুম টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এরপর মামুন তার স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য বাড়ির পাশে আমগাছের ডালে দড়ি দিয়ে আট মাসের সন্তানকে ঝুলিয়ে রাখেন। এ সময় কুলসুম ও তার শাশুড়ি আসমা বেগম চিৎকার করতে থাকেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর শিশুকে দড়ি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় কুলসুম বেগম বাদী হয়ে গতকাল রাতে শিশু হত্যাচেষ্টা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে লোহাগড়া থানায় মামুন শেখের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
লোহাগড়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলা রেকর্ডের পর সোমবার রাতেই মামুন শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামুন মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গতকাল সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।