স্বাস্থ্য ও মাধ্যমিক শিক্ষাবঞ্চিত ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের মানুষ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদের তীরবর্তী চরে রয়েছে কাবিলপুর, কালাসোনার চর, খাটিয়ামাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদের তীরবর্তী চরে রয়েছে কাবিলপুর, কালাসোনার চর, খাটিয়ামাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। নদীভাঙন ও বিচ্ছিন্নতা এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বর্ষাকালে নদ ফুলেফেঁপে ওঠে। ভেঙে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি যেন এক অবরুদ্ধ পৃথিবীর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। নদের ওপারে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও হাটবাজার। এপারে কেবল অনিশ্চয়তা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মাধ্যমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাও মেলে না সেখানে।

চরের বাসিন্দারা বলছেন, সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে এখানকার মানুষ প্রতিদিন টিকে থাকছেন শুধু মনোবল আর প্রাকৃতিক সহনশীলতা দিয়ে। উন্নয়নবঞ্চিত জনপদে রাষ্ট্রের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবুও মানুষ টিকে আছে।

চরাঞ্চলটিতে নেই কোনো পাকা রাস্তা। বর্ষায় কাঁচা রাস্তাও তলিয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে বালুচরে হেঁটে চলাই কষ্টকর। রোগীদের হাসপাতালে নিতে হলে নৌকায় বা বাঁশের ভেলায় করে নদী পার হতে হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রও নেই এখানে।

টেংরাকান্দি চরের নাজমা বেগম বলেন, ‘হাসপাতাল তো অনেক দূরে। সন্তান প্রসবের সময় ধাত্রী আসেন আরেক চর থেকে। কোনো জটিলতা হলে গর্ভবতী নারীকে আর বাঁচানো যায় না। কয়েক বছর আগে এক গর্ভবতীকে হাসপাতালে নেয়ার পথে নৌকায় মারা যান।’

টেংরাকান্দিতে একটি মাত্র মাদ্রাসা আছে। শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য নদী পার হয়ে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তাই এ এলাকার অনেকেই এখন আর স্কুলে যায় না।

গুণভড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আসিফ। স্কুলে যায় নৌকায় করে। শুকনো মৌসুমে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার বালুচর পেরিয়ে যেতে হয় ওপারের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান বিশ্বাস তোহা বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রপারের এ জনপদের মানুষ প্রতিদিনই প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকেন। তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শুধু উন্নয়ন নয়, বরং মৌলিক অধিকার রক্ষাও জরুরি। এ অঞ্চলে কোনো হাসপাতাল নেই। চিকিৎসাসেবা কল্পনারও বাইরে। সাধারণ রোগবালাইয়ে ভুগলে লোকজন স্থানীয় কবিরাজ বা ওঝার শরণাপন্ন হন। প্রাথমিক চিকিৎসা বা ওষুধ পাওয়ার জন্য যেতে হয় নৌকা করে উপজেলা শহরে, যা বর্ষায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’

ফজলুপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন জানান, ‘বারবার প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেয়া হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কাবিলপুর চরে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে একটিও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও অর্থ সংকটের কথা বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।’

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগদ্বন্ধু মণ্ডল বলেন, ‘এ অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে নদীভাঙন ও দুর্যোগ প্রবণতার কারণে কাজ করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ।’

আরও