খাদ্যগুদামে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। খাদ্য নিরাপদ না হলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের কোনো খাদ্যগুদামে অনিয়ম পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলার খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হবে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রয়াত পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মরণে আয়োজিত বিনা মূল্যের চিকিৎসা শিবির পরিদর্শন ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। খাদ্য নিরাপদ না হলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের খাদ্যগুদামগুলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি খাদ্যগুদামে অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী। যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটে খাদ্য নিয়ে সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত মজুদ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।

সার সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদের কথা জানানো হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও সার বিতরণে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকতে পারে।

কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে না বলেও জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট নৌরুটে ওয়াই-প্যাটার্নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটির সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর বিষয়ে দেশবাসীকে জানানো হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবেন। এর আগে বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালেও নিজের মেধা ও সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকার মানুষও আনন্দিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার মো. নূর হোসেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মিজ রওশন আরা, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মাখন, ড্যাবের মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি ডা. জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ডা. বদরুল আলম চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম থেকে জাগীর-মেঘশিমুল পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তার উদ্বোধন করেন। পরে মুন্নু ক্যাফেটেরিয়ার সভাকক্ষে ব্যুরো অব সোশ্যাল ওয়াচ আয়োজিত ‘পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

সেমিনারে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও ইশতেহারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একক কোনো উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

মানিকগঞ্জের নদ-নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও