দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রভাবে পাঁচটি নদীর ৯টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরো কয়েকটি নদীর বিভিন্ন স্টেশন সতর্কসীমায় পৌঁছেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারি, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ, মনু নদীর মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজার এবং খোয়াই নদীর বল্লা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং ৫টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৪৫ মিলিমিটার। এছাড়া চট্টগ্রামে ২০৩ মিলিমিটার, যশোরে ১৭৪, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ১৭০, সাতক্ষীরায় ১৬৩, খুলনায় ১২২, সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১০৪ এবং চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
একই সময়ে উজানে ভারতের মেঘালয়ের মাউসিনরামে ১৭৭ মিলিমিটার, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে ১৪৩, মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৩৫, সোহরায় ১২০, চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ এবং ত্রিপুরার সোনামুরায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।