ফরিদপুর শহরের যানজট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ বিপুলসংখ্যক ছোট-বড় যানবাহনের চাপে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ পরিস্থিতি নিরসনে কয়েকটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। পৌর কর্তৃপক্ষের আশা, এসব কাজ শেষ হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে, পাশাপাশি জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৩ টাকা ব্যয়ে মোট ৪ দশমিক ০৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিআইবি বটতলা হয়ে তেঁতুলতলা পর্যন্ত, ফরিদ শাহ রোড থেকে পৌরসভা পর্যন্ত এবং মাতৃমঙ্গল থেকে সহকারী পুলিশ সুপারের বাংলো পর্যন্ত সড়ক। এসব সড়কে কারপেটিংয়ের পাশাপাশি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে।
এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা ব্যয়ে কয়েকটি সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে চৌরঙ্গী মসজিদ থেকে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪৩ মিটার কারপেটিং সড়ক, বিল মামুদপুর নতুনডাঙ্গী থেকে সোনা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫ মিটার এইচবিবি সড়ক এবং মণ্ডলবাড়ী সড়ক লিংক রোডে ২০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে শুকপাক সড়কের ৪৭২ মিটার ইউনিব্লক এবং তোতার মোড় থেকে মোসলেম খান ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার ঢালাই সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব সড়কের বেশির ভাগই ছিল সরু ও খানাখন্দে ভরা। অনেক জায়গায় দুটি যানবাহনের পাশাপাশি চলাচলও কঠিন ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকত। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতো।
রিকশাচালক শরাফত আলী, পথচারী ইব্রাহিম মোল্লা ও আবির হোসেন বলেন, সড়কগুলো প্রশস্ত ও সংস্কার করা হলে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। নতুন করে ড্রেন নির্মাণ করায় বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তিও কমবে। ফুটপাত নির্মিত হলে পথচারীদের চলাচলেও সুবিধা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ, প্রাইভেটকারচালক আব্দুল আলী ও শওকত হোসেনের মতে, চলমান কাজ শেষ হলে এসব এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। তবে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়সূচি ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কাজে অনিয়ম হলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এদিকে জেলার পুলিশ হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রশস্ত করার সময় পুরোনো গাছ না কাটায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, গাছ অক্ষত রেখে সড়ক উন্নয়ন করায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। কাজের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার প্রকৌশলীরা তৎপর রয়েছেন। তিনি নিজেও কাজ তদারকি করছেন। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ বুঝে নেয়া হবে। তিনটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শহরের প্রধান সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।