ঘের মালিকের অভিযোগ

যশোরে অক্সিজেন সংকটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

বেনাপোলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সোনামুখো বিলে অক্সিজেন সংকট সৃষ্টি হয়ে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিক পক্ষ।

গত শনিবার রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে সজনের ঘেরে মাছের এ আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকাল হতে না হতেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে।

খামার মালিকদের দাবি, দিনে ও রাতে ঘনঘন এবং দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হওয়ায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর উপজেলার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, লোডশেডিং শুরুর আগেই ঘেরের মাছের মড়ক শুরু হয়েছিল। এছাড়া ওইদিন মাত্র ৪০ মিনিট লোডশেডিং করা হয়। এত অল্প সময়ে মাছ মারা যাওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণত ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে মাছ মারা যায়।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।’

অন্য খামারি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এ খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’ তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দিনদিন উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ওইদিন মাত্র ৪০ মিনিট লোডশেডিং করা হয়েছে। এত স্বল্প সময়ে মাছ মরে যাওয়ার কথা নয়। আমরা জানতে পেরেছি, লোডশেডিং শুরুর আগেই ঘেরের মাছ মারা যাওয়া শুরু করে। তাছাড়া উদ্যোক্তারা ঘেরে বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখেননি।’

আরও