বরগুনায় ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম স্বাস্থ্য বিভাগ

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরগুনা পৌর শহর ও সদর উপজেলায়। পাশাপাশি পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলাতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসক, ওষুধ ও স্যালাইনের সংকটে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৭০৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন নতুন ৭৪ জন রোগী। সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরগুনার আরো ৮ জন বাসিন্দা মারা গেছেন।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরগুনা পৌর শহর ও সদর উপজেলায়। পাশাপাশি পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলাতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বরগুনা সদর হাসপাতালে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নারী ও শিশু ওয়ার্ড, মেডিসিন ইউনিটসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীর ভিড়। অনেক রোগীকে স্যালাইন ও রক্ত পরীক্ষার কিট বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো

রোগীর স্বজন জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার ভাই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। জায়গা নেই, ডাক্তার-নার্সরাও অনেক ব্যস্ত। হাসপাতালের ল্যাবে টেস্ট করানো যাচ্ছে না। বাইরেই করাতে হচ্ছে। স্যালাইনও বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এত রোগী যে সুস্থ মানুষও এখানে অসুস্থ হয়ে যাবে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজোয়ানুর আলম বলেন, ‘রোগীর চাপ সামাল দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত না এলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চিকিৎসা সেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।’

তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অতিরিক্ত ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্যালাইন ও রক্ত পরীক্ষার কিটের সংকট নিরসনেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আরও