ইপিএ নিয়ে সেমিনারে বক্তারা

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুবিধা পেতে সমন্বিত নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন

চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সই করে বাংলাদেশ ও জাপান। এ চুক্তির সুবিধা পেতে সমন্বিত নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়নের গুরুত্ব আরোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রাজধানীতে জাপান দূতাবাসে এক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। জাপান দূতাবাসের সহযোগিতায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ‘ম্যাক্সিমাইজিং দ্য অপরচুনিটি অব দ্য বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বাংলাদেশ ও জাপানের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়িক নেতারা এতে অংশ নেন।

সাইদা শিনিচি বলেন, ‘ইপিএ মানে শুধু শুল্ক হ্রাস নয়। এটি কাস্টমস পদ্ধতি ও অন্যান্য বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রবিধানের পাশাপাশি সেবা খাতের নিয়মাবলিসহ বিস্তৃত নিয়ম ও শৃঙ্খলা তৈরির সঙ্গে জড়িত। নিঃসন্দেহে এর পূর্ণ সুবিধা পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন একটি পূর্বশর্ত। ইপিএর পূর্ণ সুবিধা উপভোগ করতে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও বৃহৎ আকারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে আমি ‘স্বনির্ভরতার’ গুরুত্বের ওপর জোর দিতে চাই।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আজকের সেমিনারটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প উন্নয়ন নিয়ে কৌশলগত মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এতে নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে। এ আলোচনা জাপানের ‘‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’’ ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

সাইদা শিনিচি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং জাপান সবসময় একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।’ শিনিচি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদ দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করবে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত সহায়তাভিত্তিক সহযোগিতার বাইরে গিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।’

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বাংলাদেশকে বেশকিছু নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর নীতি ও কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

সেমিনারে নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পাররে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, জাইকার বাংলাদেশ অফিসের সিনিয়র প্রতিনিধি হিরোশি ইয়োশিদা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুইকি কাতাওকা, বাংলাদেশ জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজসহ আরো অনেকে। খাতভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক।

আরও