বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেসের উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রেললাইন মেরামত ও লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে ফেলার পর ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী সব ট্রেন পর্যায়ক্রমে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে সান্তাহার রেল জংশনের অদূরে বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং উভয় পাশে ৯ জোড়া ট্রেন আটকা পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। নীলসাগর এক্সপ্রেসের মোট ১৬টি বগির মধ্যে ৯টি লাইনচ্যুত হলেও ৩টি বগি লাইনে তোলা সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো মেরামত সাপেক্ষে পরে লাইনে তোলার জন্য পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা বেগম জানান, রেললাইন ও ক্ষতিগ্রস্ত বগি উদ্ধারের কাজ একসঙ্গে চলায় চলাচলের উপযোগী করতে সময় বেশি লেগেছে। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি শাহজাহান আলী, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বর্তমানে এ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে।