বিওয়াইএমইউএন সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শুধু জিপিএ ৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটাতে হবে। আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নাগরিকদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে। তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের ভবিষ্যৎ আরো সমৃদ্ধ হবে।’

দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় বড় আন্দোলনে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ।’ তাদের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের এ শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘অতীতের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে।’ উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে দেশে ফিরে আগামীর নেতৃত্বে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিতর্ক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। সংসদীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে তরুণরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে পারেন বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তরুণদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

আরও