বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ বেড়েছে

গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে সফলতা পেয়েছেন বগুড়ার চাষীরা।

গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে সফলতা পেয়েছেন বগুড়ার চাষীরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১২৮ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টন। আগের বছর আমের বাগান ছিল চার হাজার হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বগুড়ার বাজারে স্থানীয় জাতের আম পাওয়া গেলেও মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হওয়ায় স্বাদ ও মান বেড়েছে। চলতি মৌসুমে বাজারে যে আম পাওয়া যাবে তা ভালো মানের।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর প্রচুর আম বগুড়া অঞ্চলেও উৎপাদন হচ্ছে। কিছু বেকার যুবক বাগান তৈরি করে আম চাষ করছেন। বগুড়াতেও ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, আম্রপালির পাশাপাশি বারি-৪, বারি-১১ ও উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার ১২টি উপজেলায় সহস্রাধিক চাষী বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করছেন। চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ১২৮ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে চাষ বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ, আদমদীঘি, বগুড়া সদর, নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও গাবতলী উপজেলায়।

বগুড়া আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ২০১৮ সালে বগুড়ায় আমবাগান ছিল ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এ থেকে উৎপাদিত হয় ৪২ হাজার টনেরও বেশি। ২০২০ সালে বাগান ছিল ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়া ২০২৩ সালে ৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১২৮ হেক্টর জমিতে বাগান করা হয়েছে।

আমচাষীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। কয়েক দিন পর আম বাজারে তুলতে পারবেন তারা।

বগুড়ার বনানী হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মোছা. ছাহেরা বানু জানান, সরকারিভাবে প্রতি মাসেই বিভিন্ন জাতের আমের চারার চাহিদা থাকছে। এছাড়া বেসরকারি শতাধিক নার্সারি রয়েছে, সেখান থেকেও আমের চারা বিক্রি হয়। বগুড়ায় সূর্যডিম আম, ভিয়েতনাম আম, গুরুমতি আম, বানানা আমও চাষ হয়েছে। বগুড়ার বাজারে এবার বেশ আম পাওয়া যাবে, যা স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে।

আরও