ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আজ শনিবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার ১৯৮তম জামাত। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। দীর্ঘদিন পর তিনি এই জামাতে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।
ঈদ জামাত ঘিরে ছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১ হাজার ২০০ সদস্য মাঠ ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠজুড়ে বসানো হয় ৪টি ওয়াচ টাওয়ার, আর্চওয়ে, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যবেক্ষণে ছিল ড্রোন। গোয়েন্দা নজরদারিও ছিল জোরদার। মোতায়েন ছিল র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
ঈদগাহে প্রবেশের জন্য রাখা হয় ২৩টি ফটকের মধ্যে ৫টি উন্মুক্ত প্রবেশপথ। মুসল্লিদের প্রত্যেককে তিন স্তরে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনতে দেওয়া হয়, ব্যাগ বহনে ছিল নিষেধাজ্ঞা।
ঈদ জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে আসতে শুরু করেন। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভৈরব ও ময়মনসিংহ রুটে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।
নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শান্তির প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।
ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার মোহা. কাজেম উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে শোলাকিয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মাঠের প্রতিটি অংশ নজরদারির আওতায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন ছিল।’
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া বলেন, ‘১৯৮তম ঈদুল আজহার জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দূরপাল্লার মুসল্লিদের জন্য ট্রেন চলাচলসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।’
প্রতি বছর ঈদের জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে শোলাকিয়ায়। ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ হলেও কোরবানির ব্যস্ততার কারণে ঈদুল আজহার জামাতে তুলনামূলকভাবে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।