মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জামায়াত আমির

আন্দোলনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব

জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে তা ‘সরকারের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসবে’ বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে কারো মুখের দিকে তাকাব না, আমরা জনগণের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এ সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব।

সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা এ সিন্ডিকেটে জড়িত নন।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা চাই মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত হোক। তবে অসৎ কোনো ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠান থাকলে তারা যেন সুবিধা না পায়। আশ্চর্য, এখানে ২৫টি এজেন্সি সিলেক্ট করা হয়েছে, বোঝাই যাচ্ছে তারা হবেন মাস্টার এজেন্সি। তাদের অধীনে অ্যাসোসিয়েট এজেন্সি থাকবে। ক্রাইটেরিয়া কী? কীসের ভিত্তিতে সিলেক্ট করা হলো? নিশ্চয়ই সরকার এর সঙ্গে জড়িত, না হলে এটি হয় কীভাবে? সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা জড়িত নন।’

জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে তা ‘সরকারের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসবে’ বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে কারো মুখের দিকে তাকাব না, আমরা জনগণের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এ সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। বাংলাদেশে শুধু শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট না, বাজার সিন্ডিকেটও সব জায়গায় বসে আছে। যদি কখনো সরকার গঠনের সুযোগ হয়, এসব সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব কোথাও রাখব না। সব সিন্ডিকেটকে শূন্য ঘোষণা করা হবে, জিরো ঘোষণা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভোটারদের নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট মাইনাস করার চিন্তা করা হচ্ছে। এটা যদি হয়, তাদের ওপর জুলুম করা হবে, অবিচার করা হবে। আমরা এটা মানব না, পরিষ্কার। এটা হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে জ্বলে উঠব। এখন তারা (প্রবাসীরা) ভোটার, তারা দেশে না প্রবাসে—এটা অবান্তর। তারা যেখানেই থাকুক, তাদের ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন আইনজীবী শাহরিয়ার কবির। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

আরও