নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. আকুব্বর শেখ। নিজের কোনো জমি নেই। এক সময় পরের জমি চাষ করে সংসার চালাতেন। ২০ বছর আগে আকুব্বর শেখ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন ভাইয়ের সহযোগিতায় পাড়ি জমান প্রবাসে। জীবনের ২০ বছর কাটিয়েছেন কুয়েতে। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজ গ্রামে তিনতলা বাড়ি করেছেন। শুধু গ্রামেই নয়, নড়াইল শহরেও জমি কিনে গড়েছেন ছয়তলা বাড়ি।
নড়াইল শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরের রতডাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস এ গ্রামে। আকুব্বর শেখের মতো এ জনপদের অনেকে থাকেন কুয়েত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কানাডা, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে অন্তত ৫০০ জন থাকেন কুয়েতে। এজন্য গ্রামটি এখন ‘কুয়েত গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত।
এক সময় গ্রামের শতভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আশির দশকের শেষ দিকে এ গ্রামের মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমাতে থাকেন। তাদের সহযোগিতায় প্রতিটি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পাড়ি জমাতে থাকেন বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে এ গ্রামের প্রতিটি পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য বিভিন্ন দেশে থাকেন। রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে এ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে গেছে।
গ্রামটিতে রয়েছে একটি বাজার, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। রয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখাও স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত আসছে রেমিট্যান্স।
অগ্রণী ব্যাংক রতডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক পুলক কুমার শীল বলেন, ‘প্রবাসীদের কথা চিন্তা করেই এখানে ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা আসে। বিদেশ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত বোনাসও দেয়া হয়।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘এক সময় এ গ্রামে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ বিদেশমুখী হওয়ায় এ জনপদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমেছে। এলাকার মানুষের জীবনমানেরও পরিবর্তন হয়েছে। জেলার মধ্যে রতডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।’
নড়াইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আবুল বাসার আল মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রবাসে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে আরো বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন বিদেশগামী বেকার যুবকরা।’