গাজীপুরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বস্তি, শিল্পকারখানায় ফিরছে উৎপাদনের গতি

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লোডশেডিংও। এতে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে গ্যাসের সরবরাহ আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। এ সময় তিনি স্প্যারো ফ্যাশন, ডিবিএল গার্মেন্টস, পল্লী বিদ্যুতের জয়দেবপুর গ্রিড এবং তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্রে (স্টেশন) যান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং লোডশেডিংয়ের কারণে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়।

তারা আরো জানায়, গাজীপুরের শিল্পকারখানায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে আগে সরবরাহ করা হতো প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরবরাহ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।

ডিবিএল গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মেদ আব্দুল কাদির অনু বলেন, গ্যাসের চাপ বাড়ায় শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরো স্বাভাবিক হবে।

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মাহবুব জানান, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। তৈরি পোশাক, ডায়িং, স্পিনিং, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতের বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা রয়েছে এ জেলায়। শিল্প মালিকরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং সাম্প্রতিক ক্ষতির পরিমাণও কমে আসবে।

আরও