রংপুরে আসিফ মাহমুদ

জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছলে আরো দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে সরকার

উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার থেকে আমরা আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করেছি। আঞ্চলিক বৈষম্য তো একদিনে বা এক রাতে নিরসন করে ফেলা সম্ভব নয়। অবশ্যই সদিচ্ছা থাকলে ধীরে ধীরে যত সময় যাবে, এগুলো সমাধান হয়ে আসবে।

স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেয়ার জন্য সরকার সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদের নিয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছলে সরকার আরো দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে রংপুর নগরীর পার্কের মোড়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন পরিষদে যে সব কট্টর আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যান ছিলেন তারা পালিয়ে গেছেন। এর ফলে জনগণকে দৈনন্দিন সেবা দিতে পারছে না স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি কার্ড থেকে শুরু করে সব দৈনন্দিন সেবার জন্য মানুষ স্থানীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল। যার কারণে আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে দিতে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত না হওয়ায় সেটা করা সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার কাঠামো পূর্ণগঠন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে, কেন্দ্র দখল করা হয়েছে, সে কারণে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। স্থান পূরণে সরকারি অফিসাররা এক-একজন দুই-তিনটা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সেক্ষেত্রে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ যদি আমরা ভেঙ্গে দেই তাহলে সেটা পরিচালনা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ অফিসার নেই এবং একটা বড় জাতীয় সংকট তৈরি হবে। সে জায়গা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার থেকে আমরা আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করেছি। আঞ্চলিক বৈষম্য তো একদিনে বা এক রাতে নিরসন করে ফেলা সম্ভব নয়। অবশ্যই সদিচ্ছা থাকলে ধীরে ধীরে যত সময় যাবে, এগুলো সমাধান হয়ে আসবে।

এ সময় ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীসহ অন্যরা।

আরও