চার জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের পরবর্তী দুইদিনে চার জেলায় সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের পরবর্তী দুইদিনে চার জেলায় সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নয়, বরং গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংঘর্ষ হয়েছে বাগেরহাট, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায়। এছাড়া গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহত হন একজন। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভোটের পরদিন শুক্রবার বাগেরহাট, কিশোরগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও দলের বিদ্রোহী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ওসমান সরদার নামের এক ব্যক্তিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান সরদারের মৃত্যু হয়। বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তার বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম। এ দুই প্রার্থীকেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ওসমান সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।’

ভোটের পরের দিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জেও। পুলিশ জানায়, শুক্রবার কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও পরাজিত বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাজিতপুর থানার ওসি এসএম শাহিদুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

একই দিন দুপুরে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ এলাকায় নির্বাচন নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।’

এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তবে জসিম উদ্দিন পারিবারিক দ্বন্দ্বে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। উপজেলার চর আব্দুল্লাহ গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনার পর সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ১৯ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ। গতকাল দুপুরে মুন্সিগঞ্জ সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথা কাটাকাটির মাধ্যমে সেই বিরোধ নতুন করে উসকে ওঠে।

এদিকে গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিন ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছেন, ভোররাতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন।

আরও