বিএনপির একক প্রচেষ্টা নয়, দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেছেন, মতের দ্বিমত থাকতে পারে, তবে উভয় দল মিলে আমরা যে ঐক্যটি নিয়ে আসব, সেটি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ-তিতিক্ষার পর আজকের যে দেশটি পেয়েছি, সেটিকে আবার নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিএনপির একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের কালেক্টরেট স্কুল মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীলদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল খাল খনন কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমাকে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কয়েকটি মিটিং করতে হয়েছে। এরপর নির্ধারিত সময়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এক সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও সেখানে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে এমপি-মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এটি বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের প্রকল্প। এরপর আগামী ৫ বছরের জন্য আরো ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। বিরোধী দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমিরও খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জুলাই সনদের বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এমপি হিসেবে শপথও নিয়েছি। কিন্তু কখনো জুলাই সনদ পাশ করার মাধ্যমে আমাদের শপথ নিতে হবে—এ ধরনের কোনো আলোচনা কখনো ছিল না এবং এখনও নেই। তবে যেহেতু এটি গৃহীত হয়েছে, অটোমেটিকভাবে পার্লামেন্টে বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর কার্যকারিতা শুরু হয়ে যাবে। তার মানে এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেখানো হয়েছে, সেটি সংসদে আলোচনা হওয়ার পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কখনো ইতিবাচক বা কখনো নেতিবাচক হতে পারে।
তিনি বলেন, এ পার্লামেন্ট দীর্ঘদিন দেশবাসীর কাছে অনুপস্থিত ছিল। বিগত ১৭ বছর কোনো নির্বাচন ছিল না, কিন্তু পার্লামেন্ট ছিল। সে সময় পার্লামেন্টে জনগণের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের আলাপ-আলোচনা ছিল না। এজন্য বর্তমান পার্লামেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রতি সম্মান রেখে তাদের কাজ তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া—এটাই এখন সরকার দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শাহাবউদ্দিন সাবু, জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমানসহ অনেকে।