প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও এর সুফল না মেলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কয়েক দিনের সামান্য বৃষ্টিতেই খুলনা নগরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি অধিকাংশ অলিগলিও পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছে বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এ প্রকল্পের সুফল মিলছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, নগরের ৩, ৭, ৯, ২২, ২৩ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। বৃষ্টির সঙ্গে রূপসা নদীতে জোয়ার এলে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। তখন নদীর পানি নালা দিয়ে শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং স্ট্যান্ড রোড, চানমারী, কেএমপি সদর দপ্তর এলাকা, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-১৩ সালে প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে শতকোটি টাকার নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এরপর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও জলাবদ্ধতা নিরসন ছিল তার প্রধান প্রতিশ্রুতি।
পরে ৮২৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে দুই শতাধিক নালা নির্মাণ, ময়ূর নদসহ সাতটি খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবু প্রকল্পের অধীনে দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি হলেও বৃষ্টির দিনে তার সুফল মিলছে না।
এ প্রকল্পের পরিচালক ও কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসের ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬৯টি নালা নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবই ঢাকনাযুক্ত। ঢাকনাযুক্ত নালা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষায়িত মেশিন সিটি করপোরেশনের নেই। ফলে এসব নালা ম্যানুয়ালি পরিষ্কার করতে হয়। তবে চলমান প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ময়লা পরিষ্কার করার যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা রাখা আছে। যন্ত্র এলে পরিষ্কার করার কাজটা আরো সহজ হবে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্ল্যানিং কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার বলেন, ‘নালা অপরিষ্কার, অনেক স্লুইস গেট বন্ধ রয়েছে, খাল ভরাট হয়ে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে—এসব কারণে নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সমাধানে ৮২৩ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বিগত সময়ে হয়নি। জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য রূপসায় উচ্চক্ষমতার পাম্প স্টেশন বসানোর কথা ছিল। এ পর্যন্ত পাঁচ দফা পুনঃদরপত্র আহ্বান করেও কাজ শুরু করা যায়নি। বাস্তুহারা খালের একাংশ পুরোপুরি ভরাট হয়ে আছে। সেটি কাটা হয়নি। এসব কাজ শেষ না করলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না। নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার গভীরে কেউ যায়নি। গত সাড়ে তিন মাসে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা এমন যে এখনই কাজ শুরু করলে তা শেষ করতে আরো এক-দেড় বছর লাগবে।’