একটি এনজিওর পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে বিড়িতে শুল্ক বৃদ্ধি প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খুলনা জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল বেলা ১১টায় খুলনা চেম্বার অব কমার্স ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে খুলনা চেম্বার সভাপতি কাজী আমিনুল হক বরাবর পাঁচ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো আগামী বাজেটে বিড়ির শুল্ক ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করা, যাচাই-বাছাই ছাড়া (অনলাইন) লাইসেন্সসহ রাজস্ব ফাঁকি দেয়া সব নকল বিড়ি বন্ধ, বিড়ি ও সিগারেটের অগ্রিম আয়করের বৈষম্য দূর, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ানো এবং বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধ করা।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্মসম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মুন্সী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, প্রচার সম্পাদক শামীম ইসলাম, কার্যকরী সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘দেশের প্রাচীন শ্রমঘন বিড়ি শিল্পে সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত লাখ লাখ মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। স্বাধীনতার পর এ অসহায় শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিড়িশিল্পকে শুল্কমুক্ত ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বিড়িতে শুল্ক কমিয়ে সিগারেটে শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। অথচ বিদেশী সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রে বিড়ির ওপর মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে করের চাপে বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন বিড়ি শ্রমিকরা। তাই প্রাচীন এ কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিড়িতে আগামী বাজেটে শুল্ক কমাতে হবে।