মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ ইশরাকের অস্বীকার

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি। বরং তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যেকোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যেকোনো নির্দেশ আসার সাথে সাথে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অস্ত্র হাতে গত শনিবার তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মধ্যে গতকাল তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। যোগাযোগ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত রাতে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যদিও আমি সেখানে ছিলাম না। তবে বিষয়টি সঠিক বলে শুনেছি।’

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি। বরং তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যেকোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যেকোনো নির্দেশ আসার সাথে সাথে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়। অতএব এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ অথবা আরো দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা আমার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে ইনশা আল্লাহ।’

এদিকে গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশের সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা। গতকাল রাত পৌনে ১১টায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ বা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত সত্য এই যে প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’

এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গত শনিবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ইশরাক হোসেনকে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ইশরাকের ভাষ্য, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এ ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এ মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এ এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরো বড় হবে।’

আরও