মো. মোস্তফা মাহমুদ। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এর আগে নরসিংদীর ব্রাহ্মন্দী কামিনী কিশোর মৌলিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকার মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার নিয়মিত আয়োজন ‘শিক্ষালয়’-এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
প্রায় ১৯০ বছরের পুরনো শিক্ষালয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। দেখা গেছে, বাংলাদেশের পুরনো অনেক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়েছে। আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলকে তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে এবং নতুন যুগের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়তে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে আসার পর গত কয়েক বছরের দুর্বলতা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি। দেখেছি প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নিলে স্কুলের হারানো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনা যাবে। এজন্য সর্বপ্রথম আমি যেটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, সেটা হলো ফলাফল উন্নত করা। একটা প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ অনেকটা নির্ভর করে তার ফলাফলের ওপর। একাধিক শ্রেণীর অভিভাবকদের সঙ্গেও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎ করেছি—আমি কী করতে পারি, কী করলে তাদের সন্তানদের উপকার হবে এবং তারা কী পেতে চান। তখন তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো শনাক্ত করে আমি সেভাবে কাজ করছি। মোটামুটিভাবে আগের ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাব, এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। সেভাবেই কাজ করে চলছি।
স্কুল পর্যায়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বল। এ দুই বিষয়ে দুর্বলতার কারণে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় তারা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আপনি গণিত, ইংরেজিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীকে সবল করে তোলার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতার সব দায় শিশুদের নয়। শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে লটারির মাধ্যমে, সেখানে আমাদের বাছাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। দেখা গেছে, এমন কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের বয়স হয়নি অথচ লটারিতে টিকে গেছে।
আমাদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি আছে, সেটাও একটা বিষয়। এ ঘাটতি পূরণের জন্য যেসব বিষয়ে শিশুরা দুর্বল তা শনাক্ত করে তাদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষক ঘাটতি পূরণের জন্য আমি শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখেছি। সরকার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্নের আগে গেস্ট টিচার বা অতিথি শিক্ষক রেখে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছি। অভিভাবকরাও এ ব্যাপারে আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন। মতবিনিময়ের সময় তারা বলেছেন, ‘স্যার, আপনি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখেন, আমরা আপনাকে সহায়তা করব।’ আমি সেখান থেকে বিষয়ভিত্তিক কিছু শিক্ষক রেখেছি এবং সেভাবে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছি। আশা করি, অচিরেই এর ভালো ফলাফল আমরা পাব।
অনেক বিদ্যালয়ে আমরা দেখেছি, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা খুবই কম। আপনার স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক আছে?
ধরেন, আমাদের প্রয়োজন ৫০ জনের মতো শিক্ষক, কিন্তু আছে সর্বসাকুল্যে ৩০ জনের মতো। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন এবং আরো কয়েকজন অবসরে যাওয়ার পথে। শিক্ষকের সমস্যা তো একটু হচ্ছেই। শিক্ষক ঘাটতি পূরণের বিষয়টি পুরোটা আমার হাতে নেই। নতুন সরকার মাত্র দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাদেরকে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। চাইলেই সরকার তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে না, তাদেরকে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আশা করি, সামনের দিনগুলোয় সরকার এদিকে নজর দেবে।
আমরা কেন কোনো শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর নতুন শিক্ষক অনুসন্ধান করি? আমরা তো জানি, আমাদের শিক্ষকরা কয়েক বছর পরে অবসরে যাবেন। আমাদের এ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গলদ দেখছেন কিনা?
আমাদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু গলদ আছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু বর্তমান সরকার খুব বেশি দিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক যেসব সংকট রয়েছে, এটা আমার বিবেচনা করতে হবে। এজন্য আমি মনে করি, আমাদের যা আছে তা দিয়ে যতদূর সম্ভব আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকার তো চায় না যে আমাদের কোনো সমস্যা সৃষ্টি হোক। কিন্তু সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে। কতটা পারছে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরই ভালো জানে। আর আমি আমার যতটুকু আছে, তা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাকি বিষয় আমাদের এখতিয়ারে নেই।
আমরা দেখলাম, গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। আপনি দেশের অনেকগুলো প্রথম সারির সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার কাছে কী মনে হয়—গত পাঁচ-দশ বছরে কোন সমস্যার কারণে আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিম্নগামী হলো?
এর একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর মধ্যে লটারিরও একটা কারণ ছিল। এরপর আবার একটা পর্যায়ে করোনা মহামারী তো আছেই। করোনাকালে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মান কমেছে। তার ওপর আগের সরকারের আমলে প্রণীত ত্রুটিপূর্ণ সিলেবাসেরও কিছু ভূমিকা আছে। সেখানে আমাদের যতটা দরকার, ততটা শেখানো হয়নি। শিশুদের অনেকেরই ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা লেখাপড়ার চেয়ে মোবাইলের দিকে একটু ঝুঁকে পড়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই গত এসএসসি পরীক্ষায় বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করি।
সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আপনার কী করণীয়? অথবা আমাদের শিক্ষা কাঠামো কীভাবে ঢেলে সাজানো উচিত?
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে কতটা দুর্বল সে অনুযায়ী তাদের গাইড করতে হবে। বিশেষ ক্লাস বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়ে তাদের এগিয়ে নিতে পারি। আশা করি, এতে সমস্যা অনেকটাই কমবে এবং শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারবে।
নানা সমস্যা সত্ত্বেও আমার প্রতিষ্ঠান এবার এসএসসিতে মোটামুটি ভালো ফলাফল হয়েছে। ২৪২ জন পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুজন খারাপ করেছে এবং একজন শিক্ষার্থী বিদেশে চলে গেছে।
আমরা দেখছি, আমাদের স্কুল ও কলেজের শিক্ষা অনেকটা মুখস্থনির্ভর এবং প্রথম হওয়ার বা ভালো রেজাল্টের অন্ধ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। সে জায়গায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব, সহমর্মিতা, সততা ও বন্ধুত্বের ঘাটতি দেখা যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন কোন গুণ অর্জন করা জরুরি বলে মনে করেন?
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি থাকা খুবই জরুরি। এ কারণে নৈতিক শিক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে বিষয়টি আমার সামনে এনেছেন, অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় আমি তাদের বলি—আপনারা নিজেদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এর প্রভাব আপনাদের সন্তানদের ওপরও পড়বে। মা-বাবারা যখন পরস্পরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবেন, তখন সেটির ইতিবাচক প্রভাব সন্তানদের মধ্যেও পড়বে। এতে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং ভবিষ্যতে সেটি তাদের জন্য ভালো হবে।
আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্লাব থাকা দরকার। লেখাপড়াকে যদি বিভিন্ন ক্লাব ও কার্যক্রমের মাধ্যমে আনন্দময় করা যায় এবং বর্তমান যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের যুক্ত রাখা যায়, তাহলে তারা একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে। এটি আমাদের সবারই করা উচিত। বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থী যা পড়ল তা দিয়ে সে কী করতে পারে, কীভাবে তা কাজে লাগাতে পারে—এ মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। অর্থাৎ আমি যা শিখলাম, তার প্রয়োগ কী এবং এর মাধ্যমে আমি কী করতে পারি—সেটি বুঝতে হবে।
এজন্য হাতে-কলমে শিক্ষা এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত রাখা সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা ও গুণাবলি তৈরি হবে।
সরকার খেলাধুলা নিয়ে অনেক পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে। স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, ভাষা শেখার ওপর জোর দেয়া—এ প্রক্রিয়াগুলো কি শুরু হয়েছে?
হ্যাঁ, এগুলো শুরু হয়েছে। তবে আমাদের স্কুলে অবকাঠামোগত কারণে কিছুটা ঘাটতি আছে। এটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হলেও অবকাঠামো এখনো কিছুটা দুর্বল। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৯০ বছরের পুরনো। কিন্তু আমাদের খেলার মাঠ খুবই ছোট।
বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ২ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী। তাদের জন্য অনেক কক্ষের প্রয়োজন। বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনার ক্ষেত্রেও জায়গার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করেছেন। অবকাঠামো উন্নত করা গেলে বিভিন্ন ক্লাবকে আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ক্লাব আছে, কিন্তু সেগুলোর প্রতি আরো ভালোভাবে নজর দিয়ে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত রাখা গেলে তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ খুবই দরকার। তারা অল্প জায়গার মধ্যে থাকে। ফলে স্কুলে যদি খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকে, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব থাকে, তাহলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। এর মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে তারা দক্ষ নাগরিক হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেদের পরিচিত করতে পারবে।
আমরা দেখেছি, শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও অনেক সময় তারা প্রশিক্ষণে শেখা বিষয়গুলো শ্রেণীকক্ষে প্রয়োগ করতে অনাগ্রহী থাকেন। আমাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কি যথেষ্ট আধুনিক ও যুগোপযোগী? এটি শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে?
শিক্ষক প্রশিক্ষণে ভালো অনেক কিছুই আছে। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে সেভাবেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। তবে কিছু শিক্ষক তা করেন না। প্রশিক্ষণ কাজে না লাগানোর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো স্কুলে শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়া। একের পর এক ক্লাস নেয়ার কারণে শিক্ষকদের মধ্যে সব সময় একই ধরনের উদ্যম থাকে না। প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এটি একটি বাস্তব সমস্যা। কোন শিক্ষকের ক্লাসের সংখ্যা যদি কম থাকে, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি সহায়তা দিতে পারেন। কিন্তু যখন পরপর একাধিক ক্লাস নিতে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের অমনোযোগিতা তৈরি হতে পারে।
আমি মনে করি, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরো যুগোপযোগী করা উচিত। পুরনো বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কীভাবে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আমাদের প্রশিক্ষণ কতটা আধুনিক হয়েছে—সেটি দেখতে হবে।
সরকার একসঙ্গে সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিতে না পারলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত দুজন শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে পারে। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন। এতে সরকারের ওপর চাপও কমবে এবং প্রশিক্ষণের সুফল শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছবে।
প্রধান শিক্ষক হিসেবে আপনার লক্ষ্য কী? আপনার মেয়াদকালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলকে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চান?
আমি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার সময় জেনেছি, এ প্রতিষ্ঠান একসময় উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। এখান থেকে অনেক গুণী মানুষ বের হয়েছেন। আমি চাই, প্রতিষ্ঠানটি আবার সেই গৌরবময় অবস্থানে ফিরে যাক। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি। অভিভাবকদের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছি, তারা যেভাবে সহযোগিতা করছেন এবং আমার কথাগুলো শুনে সে অনুযায়ী কাজ করছেন, তাতে আশা করছি, অচিরেই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারব। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সে ধরনের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আশা করি, আমি পারব, ইনশাআল্লাহ।
আপনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন সংস্কার হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?
প্রথমত, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। এটিই আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এই একটি জায়গায় যদি সমাধান করা যায়, তাহলে আমার মনে হয় শিক্ষার প্রায় ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কমাতে হবে। এখন যেখানে একটি ক্লাসে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকে, সেখানে সংখ্যা কিছুটা কমানো গেলে একজন শিক্ষকের পক্ষে পুরো ক্লাসের ওপর নজর রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী গাইড করা সম্ভব হবে।
এত বেশি শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষকের পক্ষে স্বল্প সময়ের মধ্যে সামলানো কঠিন। তাই প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্তসংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক।