চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সদ্য অপসারণকৃত উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচিতে অচল চুয়েট। কয়েক দিনের মতো গতকাল সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ পালন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ চুয়েট ক্যাম্পাসে মুখোশ মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানান চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে পরিবর্তনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকে বিক্ষোভ, সর্বাত্মক শাটডাউন, গণঅবস্থান, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, স্মারকলিপি, মশাল মিছিল, রেড কার্ড, গ্রাফিতি ও প্রতীকী প্রশ্নযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হচ্ছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিনা কারণে উপাচার্যকে এভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা আমরা মানতে পারছি না। যতক্ষণ না তার নিয়োগ পুনরায় দেয়া হচ্ছে ততক্ষণ আমরা ক্লাসে ফিরব না। ক্যাম্পাস ত্যাগ করব না। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিষয় বিবেচনা করবেন ও সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে আমাদের অতিসত্ত্বর ক্লাসে ফেরানোর ব্যবস্থা করবেন।’
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।