ফরিদপুর সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে পাঁচ বছর আগে সোয়া ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কবিরপুর চরের সেতুটি। একই সঙ্গে নদীতে চলে গেছে চরটির কয়েকশ বাড়িঘর, তিনটি বাজার ও ফসলি জমি। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে পুরো কবিরপুর চরই নদে হারিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের। আগামীতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ১২২ টাকা ব্যয়ে জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪০ মিটার লং পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চার মাস ধরে ভাঙছে পদ্মা নদীর ওই অংশ। এরই মধ্যে ভাঙন চার কিলোমিটার অভ্যন্তরে চলে এসেছে। এতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কবিরপুর সেতুর অন্য প্রান্তের ছিলিমপুর চরের পুরোটাই। চরের অন্তত চার গ্রামের কয়েকশ পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমিসহ কমপক্ষে তিনটি বাজার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ছয়-সাতদিন ধরে একটু একটু করে নদীতে বিলীন হচ্ছিল কবিরপুর সেতুটি। গত শনিবার সেটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। শুধু সেতু নয়, অন্য প্রান্তের গ্রামগুলো ভাঙনের কবলে পড়ায় ক্ষতিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, আগে থেকে সরকার ব্যবস্থা নিলে এত মানুষকে ভিটেমাটিহারা হতে হতো না।
এদিকে তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে কবিরপুর চরও। সহায়সম্পদ রক্ষায় অনেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বাড়িঘর। ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে ওই চরের হাজারো মানুষ। তাদের দাবি, চরের মানুষের আর্তনাদ নদী পেরিয়ে কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছে না।
পাউবো ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার মূল চ্যানেলে ভাঙন তীব্র হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। আগামীতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সম্ভব হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।