বাগেরহাটে ইট বোঝাই ট্রলির ধাক্কায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাগেরহাট পিরোজপুর মহাসড়কের দড়াটানা সেতুর ঢালে চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ট্রলির চালক পলাতক রয়েছেন। কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশ ট্রলিটি জব্দ করেছে।
নিহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের বাবুল ফকিরের স্ত্রী রেশমী বেগম (৫০), কচুয়া উপজেলার শোলারকোলা গ্রামের সুলতান খানের ছেলে সালাম খান(৪২) এবং কচুয়া উপজেলার আঠাড়গাতি গ্রামের আশ্বাপ উদ্দিনের ছেলে ভ্যান চালক আজগর মীর (৫০)।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার এসআই হাসানুর রহমান বলেন, বাগেরহাট শহর থেকে দ্রুতগামী ট্রলির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যান রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রেশমী বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত হন ভ্যান চালক আজগর মীর ও যাত্রী আব্দুস সালাম খান। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে ভ্যানচালক আজগর মীর মারা যায়। পরবর্তীতে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে আব্দুস সালাম খানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালামেরও মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বাগেরহাট দড়াটানা সেতুর ঢালে বারবার দুর্ঘটনা এড়াতে পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের চিংড়ি গবেষণা ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সামনে স্পিড ব্রেকার দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, দড়াটানা সেতু থেকে নেমে পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের ডান পাশেই চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অবস্থান। দুটি প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এরপরেও কোনো যানবাহনের চালকরা এখান দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির গতি কমায় না। বরং প্রতিযোগিতা করে দ্রুত গতিতে চালিয়ে থাকে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আসা যাওয়া রয়েছে। এসব মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে চিংড়ি গবেষণার সামনে স্পিড ব্রেকার দেয়ার দাবি জানান তিনি।