ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব

৬৪ শয্যায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ১০০ শিশু উপসর্গে মৃত্যু চার

ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মেঝেতে হামের শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী। ৬৪ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ১০০ শিশু। শয্যা না থাকায় মেঝেতে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে ওষুধ দিলেও প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় বলে অভিভাবকরা জানান। শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে জানান হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, এ বিষয়ে পর্যালোচনা কমিটি করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজনের বয়স চার। আর হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২ হাজার ২২৬ শিশু। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৮ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ শিশু।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদ্য সাবেক সহযোগী শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএম রবিন জানান, সময়মতো টিকা না দেয়ার কারণে হাম বেশি হচ্ছে। টিকা দেয়ার পরও হাম হওয়ার কারণ হচ্ছে হামের প্রাদুর্ভাব। অসচেতনতার কারণে বেশি হাম হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ও শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌হামের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। যথাসম্ভব রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার পরও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের আইসোলেশনে ৬৪ শয্যা থাকলেও গড়ে প্রায় ১০০ শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

আরও