রেমিট্যান্সের প্রভাব শুধু অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর রয়েছে বহুমাত্রিক ইতিবাচক সামাজিক প্রভাবও। প্রবাস থেকে পাঠানো এ অর্থ হয়তো কোনো একটি শিশুর শিক্ষার ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, কোনো পরিবারের চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, যার মাধ্যমে হয়তো একজন মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছেন। আবার কোনো বাবা হয়তো প্রবাস থেকে আসা অর্থের ওপর নির্ভর করেই তার মেয়ের বিয়ের আয়োজন করছেন। অর্থাৎ প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, প্রয়োজন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গল্প।
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও দেশের মানুষ ও দেশের প্রতি প্রবাসীদের দায়িত্ববোধ কতটা গভীর, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। বিশেষ করে গত দুই বছরে আমরা আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব কতটা ব্যাপক।
দেশের প্রথম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি.। এ ব্যাংকের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ শুরু হয়েছিল। তবে বিগত ১৭ বছরে ব্যাংকটিতে নানা ভুল-ত্রুটি ও নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছরে আমরা এসব বিষয়কে সংকট হিসেবে না দেখে পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে নিয়েছি। ব্যাংকটিকে পুনর্গঠন করে এর হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এ পরিবর্তনের পথে আমাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী হচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের আস্থা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক আবারো দেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।