উত্তরা গণভবন নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক চায় নাটোরবাসী

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তত্কালীন দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে উত্তরা গণভবন হিসেবে নামকরণ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তত্কালীন দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে উত্তরা গণভবন হিসেবে নামকরণ করেন। সেই  নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি হবে ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখে। দিনটি স্মরণে সেখানে একটি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আয়োজনের দাবি জানিয়েছে নাটোরের বাসিন্দারা। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের মাধ্যমে উত্তরা গণভবন নামকরণের স্বার্থকতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

এরই মধ্যে উত্তরা গণভবন নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সেখানে একটি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পত্র পাঠিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লেখা চিঠিতে বলা হয়, রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার উত্তরা গণভবন আঠারো শতকে দিঘাপতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান হিসেবে নির্মিত হয়। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ১৭৩৪ সালে প্রায় ৪৩ একর জমির ওপর দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমোদনাথ রায় সম্পূর্ণ প্রসাদ কমপ্লেক্সটি পুনর্নির্মাণ করেন। সে সময় চারদিকে সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত সাড়ে ৪১ একর জমির ওপর রাজবাড়ীর ভেতর বিশেষ কারুকার্যখচিত মূল ভবনসহ ছোটবড় মোট ১২টি ভবন নির্মিত হয়।

দিঘাপতিয়ার রাজা ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে গভর্নর হাউজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী উত্তরা গণভবনকে উত্তরাঞ্চলীয় হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করে। দেশ স্বাধীন হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চল ভ্রমণ করেন। নাটোর ভ্রমণকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীর নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে নামকরণ করেন। তিনি একই তারিখে এ ভবনের মূল প্রাসাদের ভেতরে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। সেই থেকে ভবনটি ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।

১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীর নাম রাখেন ‘উত্তরা গণভবন’। সে সময় মুজিব সরকারের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হয় সেখানে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সরকারের আমলেও সেখানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে ১৯৮০ সালের ১৭ নভেম্বর উত্তরা গণভবনে একবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভাও উত্তরা গণভবনে বৈঠক করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভারও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে আর কোনো সরকারের আমলে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

দীর্ঘ সময় উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের দাবি জানিয়ে এলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটি আর পূরণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে সংগ্রহশালা, মিনি চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়েছে। যেটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।

উত্তরা গণভবনের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশার বলেন, নাটোরবাসীর দাবি, উত্তরা গণভবনে আবারো মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক করে এটির গৌরব ফিরিয়ে আনা হোক।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে ঘোষণা করার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য স্থানীয় নাগরিক সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা দাবি জানিয়েছেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, উত্তরা গণভবন নামকরণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠনের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি এখানে যাতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক করা যায়, সেজন্য আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আরও